নতুন ইসরায়েলি সরকার হলে ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য কী বদলাবে?

ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠিত হলে ফিলিস্তিনিদের জীবনে অর্থবহ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন চ্যাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ফেলো ইয়োসি মেকেলবার্গ। তবে এ নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেকেলবার্গ বলেন, বর্তমান ইসরায়েলি সরকার ফিলিস্তিনিদের জীবনকে অসহনীয় করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা কার্যত বিনা শাস্তিতে চলতে দেওয়া হচ্ছে। এতে হামলার শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষার পরিবর্তে অভিযুক্ত বসতি স্থাপনকারীদেরই সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

নতুন নেতৃত্বে নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা

মেকেলবার্গের মতে, গাদি আইজেনকোট, ইয়াইর গোলান, ইয়াইর লাপিদ ও নাফতালি বেনেটের মতো নেতাদের নিয়ে নতুন কোনো জোট সরকার গঠিত হলে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হতে পারে।

বিশেষ করে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার যে অভিযোগ উঠছে, নতুন সরকার তা সহ্য না করার নীতি নিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

মেকেলবার্গ আরও বলেন, নতুন সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিতর্কিত ‘ই১’ বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্প স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক সংযোগ এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন সমালোচকেরা।

‘অলৌকিক পরিবর্তন আশা করা উচিত নয়’

ইসরায়েলের সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও মেকেলবার্গ সতর্ক করে বলেন, নতুন সরকার এলেই রাতারাতি পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে—এমন প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না।

তাঁর ভাষায়, নতুন নেতৃত্ব এলে রাজনৈতিক আলোচনায় বাস্তববাদিতা বাড়তে পারে। বর্তমান সরকারের কট্টর ডানপন্থী অংশ এবং প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে যে প্রদর্শনমূলক রাজনৈতিক অবস্থান দেখা যাচ্ছে, তার পরিবর্তে আরও যুক্তিনির্ভর আলোচনা সম্ভব হতে পারে।

তবে ফিলিস্তিনিদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী অগ্রগতি অর্জনে শুধু ইসরায়েলের সরকার পরিবর্তন যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তিনি। এ জন্য ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরেও পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মেকেলবার্গ।

পরিবর্তনের সুযোগ, নিশ্চয়তা নয়

 

মেকেলবার্গের বক্তব্যের মূল কথা হলো, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠিত হলে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিগত পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেই সুযোগ বাস্তবে কতটা কাজে লাগানো যাবে, তা নির্ভর করবে নতুন সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের অবস্থানের ওপর।

তাঁর মতে, পরিবর্তন এক রাতেই আসবে না। তবু নতুন সরকার ফিলিস্তিনিদের জন্য অগ্রগতির একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে—যদিও ‘পবিত্র ভূমিতেও অলৌকিক কিছু আশা করা উচিত নয়’।