শ্বশুরবাড়িতে পিঠা কম দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর, হাসপাতালে মৃত্যু

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

চট্টগ্রামের পটিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে প্রথা অনুযায়ী পিঠা কম নিয়ে যাওয়ার জেরে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিন মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ। দীর্ঘ ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত গৃহবধূর নাম সিফাত নূর (২২)। তিনি চন্দনাইশ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. নূরের মেয়ে এবং দুবাই প্রবাসী মো. তারেকের স্ত্রী। মাত্র পাঁচ মাস আগে তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর ঐতিহ্যগত নিয়ম মেনে সিফাতের মা জহিনুর আক্তার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি পিঠা নিয়ে যান। কিন্তু পিঠার পরিমাণ কম হয়েছে এমন অজুহাত তুলে শাশুড়ি ও ননদদের সঙ্গে তাদের তীব্র কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গর্ভবতী সিফাত নূর ও তার মায়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে গুরুতর আহত হন সিফাত এবং তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর গত ২৪ অক্টোবর বিকেলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় এবং চন্দনাইশে মরদেহ এনে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, গৃহবধূকে মারধরের একটি অভিযোগ তাদের হাতে রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, পুরো ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এইচএন
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত