ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হারানোর দৌড়ে বিরোধী শিবিরের অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হয়ে উঠেছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে- তিনি নেতানিয়াহু নন। ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে অনেক ভোটারের কাছে বিষয়টি বড় হয়ে উঠেছে।
তবে আইজেনকোটের পারিবারিক ও জাতিগত পরিচয় ঘিরেও সম্প্রতি দেশটির রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত টেলিভিশন উপস্থাপক ইয়িনন মাগাল তাকে নিয়ে বর্ণবাদী ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। মাগাল আইজেনকোটকে ‘বানর’ বলে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি তাকে ‘মিজরাহি-মরক্কান’ বংশোদ্ভূত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, তাকে পরিচালনা করছে ‘আশকেনাজি অভিজাতরা’।
মন্তব্যটি ইসরায়েলের ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত ইহুদি এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ইহুদিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক বৈষম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। পরে মাগাল দাবি করেন, আইজেনকোটের জাতিগত পরিচয়কে উপহাস করা তার উদ্দেশ্য ছিল না; বরং আড়াল থেকে অন্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিকে বোঝাতে তিনি একটি প্রচলিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। নেতানিয়াহুও মন্তব্যটির নিন্দা জানান।
এই বিতর্ক আইজেনকোটের পারিবারিক পরিচয় ও রাজনৈতিক উত্থানকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে মিজরাহি ইহুদিদের একটি বড় অংশ নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টিকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে ৬৬ বছর বয়সী আইজেনকোটের জীবনকাহিনী নেতানিয়াহুর চেয়ে আলাদা। মরক্কো থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের সন্তান আইজেনকোট বেড়ে উঠেছেন তিবেরিয়াস ও আইলাত শহরে, যা ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক ক্ষমতাকেন্দ্র থেকে দূরে। অন্যদিকে নেতানিয়াহু বেড়ে উঠেছেন জেরুজালেমের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে।
আইজেনকোট সাধারণত নিজের জাতিগত পরিচয় নিয়ে কথা বলেন না। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, তার পারিবারিক পটভূমি ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এক বছর আগেও জনমত জরিপে তার সমর্থন এক অঙ্কে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন তিনি নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর দৌড়ে বিরোধী শিবিরের প্রধান প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তিনি জয়ী হলে ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রথম মিজরাহি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
কে এই গাদি আইজেনকোট?
নয় ভাইবোনের মধ্যে আইজেনকোট দ্বিতীয়। তার পাঁচ সন্তান রয়েছে। রাজনীতিতে তিনি তুলনামূলক নতুন হলেও জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (আইডিএফ)। ১৯৭৮ সালে গোলানি ব্রিগেডে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার সামরিক জীবন শুরু হয়। প্রায় ৪০ বছরের কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পর ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ছিলেন। ওই সময় নেতানিয়াহুই ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।
সেনাপ্রধান থাকাকালে ২০১৬ সালে হেবরনে এক ফিলিস্তিনি হামলাকারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাসদস্য এলোর আজারিয়াকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। আহত ওই ফিলিস্তিনিকে গুলি করার ঘটনায় ডানপন্থী রাজনীতিকেরা, এমনকি নেতানিয়াহুও আজারিয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। কিন্তু আইজেনকোট সামরিক তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পক্ষে ছিলেন। তার যুক্তি ছিল- সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা রক্ষার জন্য এ পদক্ষেপ প্রয়োজন।
২০২২ সালে সাবেক আরেক সেনাপ্রধান বেনি গান্টজের সঙ্গে রাজনীতিতে যোগ দেন আইজেনকোট। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর তিনি ও গান্টজ নেতানিয়াহুর জরুরি যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। তবে যুদ্ধের পর গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকার অভিযোগ তুলে ২০২৪ সালের জুনে তারা মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ান।
যুদ্ধের মূল্য আইজেনকোটের পরিবারকেও দিতে হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় যুদ্ধে নিহত হন তার ২৫ বছর বয়সী ছোট ছেলে গাল। একই যুদ্ধে তার দুই ভাতিজাও প্রাণ হারান। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথে লেখা এক নিবন্ধে আইজেনকোট বলেন, ছেলের কবরের পাশে তিনি শপথ করেছিলেন- গাল ও তার সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেবেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই অঙ্গীকারই এখন তার রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলোর অন্যতম ভিত্তি।
নির্বাচনে জিততে কী করতে হবে আইজেনকোটকে?
নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে বিরোধী শিবিরের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন আইজেনকোট। সাম্প্রতিক অধিকাংশ জনমত জরিপে তার ‘ইয়াশার’ পার্টি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে ২০ থেকে ২৩টি পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এসব জরিপে তার দল নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে বেশি উপযুক্ত মনে করেন- এমন প্রশ্নেও আইজেনকোট নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে আছেন বলে জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে নির্বাচনে এগিয়ে থাকলেই সরকার গঠন নিশ্চিত হবে না। ইসরায়েলের সংসদীয় ব্যবস্থায় কোনো দল সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও তার নেতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকার গঠনের দায়িত্ব পান না। রাষ্ট্রপতি সেই আইনপ্রণেতাকে দায়িত্ব দেন, যার পক্ষে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা সম্ভব বলে মনে হয়। নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৬১টি আসন। জনমত জরিপের ইঙ্গিত অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও অতি-ধর্মীয় দলগুলোর জোট এবং নেতানিয়াহুবিরোধী শিবির, কোনোটিই এককভাবে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে নেই। ফলে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
আইজেনকোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নির্ভর করতে পারে বাম, ডান ও মধ্যপন্থী দলগুলোর সমর্থনের ওপর। কোনো কোনো পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতাকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতাও ইতিমধ্যে এসব দলের সঙ্গে কাজ না করার কথা জানিয়েছেন।
আইজেনকোট বলেছেন, ৬১টি আসনের সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও তিনি সরকার গঠনের চেষ্টা করবেন। এতে আরব দলগুলোর বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে তার জোটে প্রয়োজন হতে পারে এমন ডানপন্থী দলগুলো এ ধরনের ব্যবস্থায় রাজি হবে কি-না, তা অনিশ্চিত।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে আইজেনকোটের পার্থক্য কোথায়?
সামরিক পরিকল্পনাবিদ হিসেবে পরিচিত আইজেনকোট ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক আচরণ ও নেতৃত্বের ধরনে নেতানিয়াহুর চেয়ে আলাদা। তার নির্বাচনী প্রচারের বিলবোর্ডে তাকে ‘যোদ্ধা, নেতা ও ঐক্যবদ্ধকারী’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তার দলের নাম ‘ইয়াশার’, যার হিব্রু অর্থ ‘সোজা’ বা ‘সরল’। ৭ অক্টোবর হামলার পর হামাসের হাতে জিম্মি থাকা সাবেক বন্দী এলি শারাবির একটি বক্তব্য থেকে নামটির অনুপ্রেরণা এসেছে- ‘এটি ডানও নয়, বামও নয়; এটি সোজা পথ।’
আইজেনকোটের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বড় অংশজুড়ে রয়েছে অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও জবাবদিহি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নেতানিয়াহু এ ধরনের তদন্তের বিরোধিতা করে আসছেন। এছাড়া সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ অথবা জাতীয় সেবা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আইজেনকোট। নেতানিয়াহুর বর্তমান জোটের কয়েকটি দল অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া থেকে ব্যাপক ছাড় অব্যাহত রাখার পক্ষে।
তবে নিরাপত্তা ও সামরিক নীতির প্রশ্নে আইজেনকোট নিজেও কঠোর অবস্থানের সমর্থক। গাজা, লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে তিনি মোটের ওপর সমর্থন জানিয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে তার নামের সঙ্গে ‘দাহিয়েহ ডকট্রিন’ যুক্ত রয়েছে। এই কৌশলের লক্ষ্য হলো- ভবিষ্যতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে তাদের ব্যবহৃত অবকাঠামোসহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ব্যাপক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিরোধ তৈরি করা। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়িয়ে প্রতিপক্ষের সক্ষমতা দুর্বল করতে গোপন ও সীমিত সামরিক অভিযান চালানোর কৌশল ‘ক্যাম্পেইন বিটুইন ওয়ারস’-এর সঙ্গেও তিনি যুক্ত।
ইরানের ক্ষেত্রেও আইজেনকোটের মূল লক্ষ্য নেতানিয়াহুর অবস্থানের কাছাকাছি। তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং তেহরানের আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক দুর্বল করার পক্ষে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতে সুস্পষ্ট কৌশল না থাকার সমালোচনা করেছেন তিনি। তার মতে, সামরিক সাফল্যের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগও প্রয়োজন। গাজা যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেছেন আইজেনকোট। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে নেতানিয়াহু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছেন এবং এতে ইসরায়েলি জিম্মিদের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব মতপার্থক্যই শেষ পর্যন্ত তাকে যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ছাড়তে প্রভাবিত করে।
ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে কী নীতি নিতে পারেন আইজেনকোট?
আইজেনকোট ইসরায়েলের নিরাপত্তা কাঠামো থেকে উঠে আসা একজন নেতা। তার সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের মধ্যে ডানপন্থী দল থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে ইসরায়েলের কৌশলগত নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা তার জন্য কঠিন হতে পারে। গাজা নিয়ে তার প্রতিশ্রুতি হলো- ১৮ মাসের মধ্যে হামাসের শাসনের অবসান ঘটানো। এ লক্ষ্য অর্জনে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অথবা তার ভাষায় ‘সৃজনশীল’ সামরিক অভিযানের কথা বলেছেন। নেতানিয়াহুর ঘোষিত লক্ষ্যও মোটামুটি একই ধরনের। তবে আইজেনকোটের অভিযোগ, নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত হামাসের শাসন অব্যাহত থাকবে।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে আইজেনকোট সতর্ক করে বলেছিলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকলে একসময় দ্বিজাতিভিত্তিক রাষ্ট্রের পরিবর্তে একটি দ্বিজাতিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তার ভাষায়, এমন পরিণতি হবে ‘জায়নবাদী স্বপ্নের অবসান’। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিরোধিতা করছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ সমাধানের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের ‘বাস্তবতা সম্পর্কে বিভ্রান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু এর বিকল্প হিসেবে কী ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা চান, তা স্পষ্ট করেননি।
আইজেনকোট অবশ্য পশ্চিম তীরের আনুষ্ঠানিক সংযুক্তিকরণ এবং অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরোধিতা করেছেন। বিতর্কিত ই-১ এলাকায় ইসরায়েলের বসতি নির্মাণ পরিকল্পনাকে তিনি ‘ভুল’ বলেছেন। তার যুক্তি- এ পদক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে। পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দমন এবং তার ভাষায় ‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন আইজেনকোট।
ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হতে পারে?
ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন স্পষ্ট। রোববার (২৫ অক্টোবর) তিনি নেতানিয়াহুকে ‘সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন’ জানান এবং তাকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ বলে অভিহিত করেন। অন্য কেউ প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি ভুল নেতা হবেন, এমন মন্তব্যও করেন ট্রাম্প। তার বক্তব্যে ইরান মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে একাই এগোতে হতে পারে, এমন ইঙ্গিত ছিল।
ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইজেনকোট ও বিরোধী শিবিরের অন্য নেতারা রিপাবলিকান দলের বড় অর্থদাতা মিরিয়াম অ্যাডেলসনসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসকে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে তাতে কাজ হয়নি। জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর, ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া, ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তি এবং ২০২৫-২৬ সালে ইরানে হামলার মতো নানা ঘটনায় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারাক রাভিদ ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেছিলেন, অন্য কোনো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি কাজ করতে পারবেন কি-না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো পারব, হয়তো পারব না—কে এই ঝুঁকি নিতে চায়?’ তবে গত এক বছরে নেতানিয়াহুর কিছু পদক্ষেপ ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদের ক্ষুব্ধ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের কিছু সামরিক অভিযান ট্রাম্পের আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইজেনকোটের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে এবং নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোটসঙ্গী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচ সরকারে না থাকলে ইসরায়েলের নীতি তুলনামূলক মধ্যপন্থী হতে পারে। এতে আঞ্চলিক কূটনীতি এগিয়ে নিতে ট্রাম্পের জন্যও সুযোগ বাড়তে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দীর্ঘদিনের মার্কিন লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ সহজ হতে পারে।
তবে সৌদি আরব এখনো ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতির শর্ত দিয়ে আসছে। ইসরায়েলের সরকার যদি কট্টর ডানপন্থীদের ওপর নির্ভরশীল না হয়, তাহলে এ বিষয়ে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন