দিল্লিতে আবারও ভবনধস, বাবা-ছেলে নিহত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আবারও ভবনধসের ঘটনা ঘটেছে। উত্তর-পূর্ব দিল্লির মিলন গার্ডেন এলাকায় রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় একটি ভবনের দুটি স্ল্যাব ধসে ৬০ বছর বয়সী চন্দরপাল ও ৩৩ বছর বয়সী বিজয় কুমার নিহত হয়েছেন।  ধসে পড়া অংশের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন তারা। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তারা সম্পর্কে বাবা-ছেলে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মনোজ কুমার নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ভবনটির নিচতলায় একটি গুদাম ছিল। এর ওপর প্রথম তলায় আরেকটি কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল। দুর্ঘটনায় গুদাম ও ওপরের তলার কাঠামো দুটিই ধসে পড়ে। হর্ষ বিহার থানার আওতাধীন এলাকায় এ দুর্ঘটনার পর ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এতে ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় পুলিশ, সিভিল ডিফেন্সের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

দিল্লি ফায়ার সার্ভিস জানায়, রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে ভবনধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পাঁচটি অগ্নিনির্বাপণ যান পাঠানো হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে দুজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন এমন আশঙ্কায় উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। বিভাগীয় ফায়ার কর্মকর্তা রবিন্দর সিং জানান, প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর তা আপাতত শেষ করা হয়েছে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন থাকবে।

নতুন তলা নির্মাণের সময় ধস

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সন্দীপ লাম্বা জানান, ভবনটি আগে একতলা পুরোনো স্থাপনা ছিল। সেখানে আরও একটি তলা নির্মাণের কাজ চলছিল। আশপাশের এলাকা ঘেরা থাকায় ঠিক কোন ভবনটি ধসে পড়েছে, তা শনাক্ত করতেও উদ্ধারকারীদের সমস্যায় পড়তে হয়।

মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার আগে দিল্লির দুই মন্ত্রী কপিল মিশ্র ও আশিস সুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্ধার কার্যক্রমের খোঁজ নেন। তখন কপিল মিশ্র জানিয়েছিলেন, ফায়ার সার্ভিস ও এনডিআরএফের সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে দুজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন। সে সময় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে কপিল মিশ্র বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে উদ্ধারকাজে যুক্ত করা হয়েছে। কী কারণে ভবনটি ধসে পড়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনে নতুন একটি লিন্টেল বা দরজা-জানালার ওপরের ভারবহনকারী কাঠামো বসানোর কাজ চলছিল। এ সময় সেটি ধসে পড়লে নিচের স্ল্যাবও ভেঙে যায়। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে দুজন আটকা পড়েন বলে জানান মন্ত্রী।

কংক্রিটের স্ল্যাব ঢালাইয়ের সময় দুর্ঘটনা

স্থানীয় এক বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির অতিরিক্ত তলার জন্য কংক্রিটের স্ল্যাব ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। নিচের পুরোনো স্ল্যাবটি দুর্বল ছিল। তার ওপর নতুন স্ল্যাব বসানোর সময় নিচের অংশ ভেঙে পড়ে। এতে ওপরের নতুন স্ল্যাবটিও ধসে যায়। তবে ভবনধসের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সত্য নিকেতনের ঘটনার পর নতুন দুর্ঘটনা

দিল্লিতে এর কয়েক সপ্তাহ আগে সত্য নিকেতন এলাকায় একটি ভবনধসে সাতজনের মৃত্যু হয়েছিল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত ওই ভবনটি ছেলেদের পেইং গেস্ট (পিজি) আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ভবনটিতে একটি বেজমেন্ট ও পাঁচটি ওপরের তলা ছিল। বেজমেন্টে সংস্কারকাজ চলার সময় সেটি ধসে পড়ে। পরপর ভবনধসের ঘটনায় দিল্লিতে নির্মাণকাজের নিরাপত্তা এবং পুরোনো ভবনের কাঠামোগত স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি