ইসরায়েলি নির্বাচনে ঝুলন্ত নেসেট: নেতানিয়াহু জোটের বড় ধাক্কা 

ইসরাইলের ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি)। চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর আগামী বুধবারে প্রেসিডেন্সির কাছে আনুষ্ঠানিক ফলাফল হস্তান্তর করা হবে। এর পরপরই প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সরকার গঠনের রূপরেখা ঠিক করতে দলগুলোর সাথে আলোচনায় বসবেন।

এবারের নির্বাচনে নাগরিকদের অংশগ্রহণ ছিল নজরকাড়া ও ঐতিহাসিক। যোগ্য ভোটারদের মধ্যে ৭৭.৯ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ভোটার ভোট প্রদান করেছেন। গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ উপস্থিতির রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফলাফলে আসনভিত্তিক বিন্যাসে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘লিকুদ’ পার্টি ২৭টি আসন পেয়ে শীর্ষে রয়েছে। অন্যদিকে ২১টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘য়াশার’ এবং ‘বিয়াহাদ’ পেয়েছে ১২টি আসন। এছাড়া অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে ডেমোক্র্যাটস ৮টি, ইসরাইল বেইতেনু ৭টি, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৭টি, ওৎজমা ইহুদিত ৭টি, শাস ৬টি এবং রিলিজিয়াস জায়নিজম ৬টি আসন লাভ করেছে।

ভোটের সর্বনিম্ন সীমা বা ৩.২৫ শতাংশ থ্রেশহোল্ড অতিক্রম করতে না পেরে বেশ কিছু ছোট দল সংসদ থেকে ছিটকে পড়েছে। এর মধ্যে রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি এবং পিপলস অফ ইসরাইল প্রয়োজনীয় সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোট সংসদীয় আসন গণনায় কোনো কাজে আসেনি।

রাজনৈতিক শক্তির বিচারে নেতানিয়াহু-পন্থী জোট পেয়েছে মোট ৫৩টি আসন এবং বিরোধী জোটের ঝুলিতে গেছে ৪৮টি আসন। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ৬১টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো জোটই অর্জন করতে পারেনি। বিদায়ী সরকারের ৬৮টি আসন থেকে নেমে নেতানিয়াহু শিবিরের জন্য এই ফলাফল এক বড় বিপর্যয়।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনি আরব নেতৃত্বাধীন ‘জয়েন্ট লিস্ট’ (১১টি) এবং ‘রাম’ (৮টি) মিলে রেকর্ড ১৯টি আসন জয় করেছে। বিদায়ী নেসেটের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আসন পেয়ে তারা ঐতিহাসিক সাফল্য দেখালেও অন্যান্য জিয়নবাদী দলগুলোর অসহযোগিতার কারণে বিরোধী শিবিরের সরকার গঠন কঠিন হয়ে পড়েছে।

নির্বাচন চলাকালীন সোশ্যাল মিডিয়া ও বিদেশি মিডিয়ার জালিয়াতির বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কাতারভিত্তিক প্রভাব বিস্তার কিংবা জালিয়াতির এসব দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংকট সমাধানে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ নতুন করে নির্বাচন এড়াতে সব রাজনৈতিক দলকে ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের শপথ গ্রহণের কথা থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে দেশটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অচলাবস্থায় পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল