মাতৃভূমিতেই সংখ্যালঘু: বৈষম্যে জর্জরিত ইসরায়েলের ফিলিস্তিনিরা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৬ এএম

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। দেশটির আনুষ্ঠানিক নাগরিকত্ব থাকলেও কয়েক দশক ধরে তারা চরম বৈষম্য, সামাজিক প্রান্তিকীকরণ ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছেন। বাসস্থানের অভাব, জমির অধিকারবঞ্চনা, মানসম্মত শিক্ষার সীমাবদ্ধতা এবং দুর্বল জননিরাপত্তার মতো সংকটগুলো তাদের প্রতিদিনের জীবনের মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার সময় লাখ লাখ ফিলিস্তিনি স্বভূমি থেকে বিতাড়িত হন। তবে যারা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিজেদের জন্মভূমিতে থেকে গিয়েছিলেন, তারাই মূলত আজকের এই ফিলিস্তিনি নাগরিক। ইতিহাস ও ফিলিস্তিনি জনগণের কাছে চরম এই উচ্ছেদ ও বিপর্যয়ের ঘটনা 'নাকবা' বা মহাবিপর্যয় নামে পরিচিত।

বর্তমানে ইসরায়েলে প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করছেন। তাদের নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও তারা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আইনি সুবিধায় চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এমনকি অধিকৃত গাজা ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশেও তাদের পুলিশি নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের সম্মুখীন হতে হয়।

ঐতিহাসিক তথ্যমতে, ১৯৪৭ সালের আগে পুরো ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি আরবরাই ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু ইসরায়েল সৃষ্টির সময় সশস্ত্র অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান এবং শত শত গ্রাম ধ্বংস করে প্রায় ৮০ শতাংশ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করা হয়। ১৯৪৯ সালের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ইসরায়েল ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের প্রায় ৭৮ শতাংশ অঞ্চল দখল করে নেয়।

তৎকালীন ইসরায়েলে থেকে যাওয়া প্রায় দেড় লাখ ফিলিস্তিনির এক-চতুর্থাংশই পরবর্তীতে গৃহহীন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সামরিক শাসনে তাদের চলাফেরা, রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাভাবিক জীবনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়। ১৯৫৬ সালের কাফর কাসিম হত্যাকাণ্ডে নিয়ম ভঙ্গের অজুহাতে এক ঘণ্টার মধ্যে ৪৯ জন নিরপরাধ ফিলিস্তিনিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

সামরিক শাসন উঠে গেলেও তাদের ওপর রাষ্ট্রীয় আইনগত বৈষম্য অব্যাহত থাকে। মানবাধিকার সংস্থা 'আদালাহ'-এর মতে, ১৯৪৮ সালের পর থেকে ইসরায়েলে প্রণীত ৬৫টিরও বেশি আইন সরাসরি ফিলিস্তিনিদের অধিকার খর্ব করে। ‘অনুপস্থিত ব্যক্তিদের সম্পত্তি আইন’ কিংবা ২০১৮ সালের ‘ইহুদি জাতিরাষ্ট্র আইন’-এর মাধ্যমে তাদের অধিকার ও মাতৃভাষার মর্যাদা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই বহুমুখী বৈষম্যের মধ্যেও তারা নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এইচএন
আরও পড়ুন