ইসরায়েলের নির্বাচন 

আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন কঠিন

ইসরায়েলের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সরকার গঠনের উদ্যোগ জোরদার হলেও জোট গঠনের সম্ভাবনা এখনো বেশ ক্ষীণ। এ পরিস্থিতিতে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট জানিয়েছেন, নতুন নেসেট (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) গঠনের প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক সমীকরণ যা-ই হোক, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনা তদন্তে খসড়া আইন এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ থামবে না।

সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে গোলান আইজেনকট, ইয়ার লাপিদ এবং আরব নেতা মানসুর আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে সম্ভাব্য সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রা’আম পার্টির নেতা আব্বাস। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারত্বের বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আভিগদর লিবারম্যান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৬৭টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সমর্থক জোটের আসন ৫৩টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।

তবে বিরোধী শিবিরের মধ্যে বিভাজন রয়েছে। ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর আসন ৪৮টি এবং আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসন ১৯টি। আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন কঠিন হলেও তাদের সঙ্গে জোট বা সমঝোতায় যেতে অনীহা রয়েছে বিরোধী নেতাদের একটি বড় অংশের।

রা’আম পার্টির নেতা মানসুর আব্বাস মনে করছেন, আইজেনকটের নেতৃত্বে আরব দলগুলোর বাইরের সমর্থননির্ভর সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা খুবই কম।
৭ অক্টোবরের হামলার তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশনের উদ্যোগ
আইজেনকটের দল ইয়াশার নতুন নেসেটের প্রথম অধিবেশন থেকেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে—
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তা ব্যর্থতা তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠন।
সামরিক ও জাতীয় সেবা সবার জন্য বাধ্যতামূলক করার আইন।
রাষ্ট্রীয় বাজেট ব্যবস্থার সংস্কার।
সামরিক সেবায় অংশগ্রহণকারীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।


আইজেনকটের মতে, নির্বাচনে জনগণ ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা এবং সামরিক বাহিনীতে যোগদান এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

লিবারম্যানের আপত্তিতে জোট আলোচনা জটিল
ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যান জানিয়েছেন, তিনি নেতানিয়াহু কিংবা আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্টের সমর্থননির্ভর কোনো সরকারে যোগ দেবেন না।

তিনি আপাতত রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন। ফলে আইজেনকটের সামনে সরকার গঠনের বিকল্প পথ আরও সংকুচিত হচ্ছে।

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ, তবু নেসেটের অধিবেশন পেছাবে না। নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত তদন্ত করছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে কাতারের সম্ভাব্য ভূমিকা।

নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। তবে আইজেনকট বলেছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। একই সঙ্গে তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে নতুন নেসেটের শপথ গ্রহণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা তিনি মেনে নেবেন না।

ইয়ার লাপিদও জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করা কিংবা নতুন নেসেটের শপথ গ্রহণ পিছিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

রাজনৈতিক তাৎপর্য: নির্বাচনে নেতানিয়াহুবিরোধীরা সম্মিলিতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলেও সরকার গঠনের প্রশ্নে তাদের মতপার্থক্য স্পষ্ট। ফলে আইজেনকটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ শুধু নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখা নয়, বরং আরব দলগুলোর সমর্থন, সামরিক নিয়োগনীতি এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রশ্নে বিরোধী শিবিরকে এক জায়গায় আনা।