ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানে আলোচনার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তা চলমান আলোচনার সঙ্গে পরিচিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে রেজাইকে একটি চিঠি পাঠান ভ্যান্স। এতে দুই দেশের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার কথা বলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শর্ত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানো
চিঠিতে ভ্যান্স উল্লেখ করেন, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিই ওয়াশিংটনের প্রধান স্বার্থ।
অন্যদিকে ইরানের স্বার্থ হিসেবে দেশটির যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
তবে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা করতে হলে তেহরানকে এমন প্রতিনিধিদের পাঠাতে হবে, যাঁদের সমঝোতায় পৌঁছানোর এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রকৃত ক্ষমতা রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রেজাইকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচক মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহসেন রেজাইকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে কোনো সমঝোতা হলে সেটির পক্ষে তেহরানের অভ্যন্তরে ঐকমত্য তৈরিতে রেজাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, রেজাই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ভ্যান্সের চিঠি পাওয়ার পর সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বৈঠক হতে পারে ইস্তাম্বুল বা দোহায়
মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যান্স ও রেজাইয়ের মধ্যে বৈঠক হলে তুরস্কের ইস্তাম্বুল অথবা কাতারের দোহা সম্ভাব্য স্থান হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে কাতার। দেশটির প্রতিনিধিরা রেজাইসহ ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভ্যান্সের সরাসরি চিঠিকে ইরানি নেতারা সম্মান প্রদর্শনের নিদর্শন হিসেবে দেখেছেন। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের অবস্থান নমনীয় হয়েছে, এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু না করে সমঝোতায় পৌঁছানোর কূটনৈতিক সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।
এ অবস্থায় ভ্যান্সের সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবকে যুদ্ধ বন্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনর্গঠন নিয়ে মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।
বিশ্লেষণ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, আর ইরানের স্বার্থ হিসেবে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। ফলে সম্ভাব্য আলোচনার মূল চ্যালেঞ্জ হবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা খুঁজে বের করা।