ভুটানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গাসা জেলায় শিনতাফু হ্রদের বাঁধসদৃশ প্রাকৃতিক বরফস্তর ভেঙে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। হিমবাহ হ্রদের পানি নেমে আসায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এতে গাসা জেলার মো চু নদীর তীরবর্তী জনপ্রিয় প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণ কেন্দ্র গাসা ছাচুর (Gasa Tshachu) স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। তবে আগেই এলাকাটি খালি করে ফেলায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
শিনতাফু হ্রদকে ভুটানের সম্ভাব্য বিপজ্জনক ১৭টি হিমবাহ হ্রদের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মো চু নদীর উৎসস্থলে অবস্থিত এই হ্রদ থেকে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোত আশপাশের জনপদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এর আগেও ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট বড় ধরনের আকস্মিক বন্যায় গাসা ছাচু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সে সময় মো চু নদীর পানি উপচে প্রবাহের গতিপথ পরিবর্তন করে উষ্ণ প্রস্রবণ কেন্দ্রটির দিকে চলে যায়।
পুনাখার কাছাকাছি পৌঁছেছে বন্যার পানি
বন্যার পানি ইতোমধ্যে কাবেসা গেওগের স্রিগাং এলাকা অতিক্রম করেছে। জায়গাটি পুনাখা জং থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ভুটান কর্তৃপক্ষ পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সরকারকে সতর্ক করেছে। ভুটান সীমান্তবর্তী ভারতের কয়েকটি জেলা আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে, আসামের ধুবড়ি জেলা, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পাহাড়ি এলাকা, আলিপুরদুয়ার জেলা, জলপাইগুড়ি জেলা।
কুচবিহারে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্কতা
পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার প্রশাসন সংকোশ নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক করেছে।
উত্তর ভুটান থেকে উৎপত্তি হওয়া সংকোশ নদী মো চু ও ফো চুসহ উজানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানিপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত। পরে নদীটি আসামে প্রবেশ করে ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
ফলে ভুটানে হিমবাহ হ্রদের পানি হঠাৎ নেমে আসার প্রভাব ভাটির দিকের নদী অববাহিকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হিমবাহ গলে সৃষ্ট হ্রদের পানি প্রাকৃতিক বরফ বা পাথরের বাঁধের পেছনে জমা থাকে। কোনো কারণে সেই বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি ও পলি অল্প সময়ে নিচের দিকে ধেয়ে আসে। একে বলা হয় গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা GLOF।
এ ধরনের বন্যায় নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। পাশাপাশি পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত সেতু, সড়ক, বসতি ও কৃষিজমি ধ্বংস করতে পারে।
বাংলাদেশের জন্যও পর্যবেক্ষণ জরুরি: ভুটানের নদীগুলো ভারতের মধ্য দিয়ে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এ ধরনের আকস্মিক বন্যার পানি ও নদীর প্রবাহ পরিস্থিতি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জন্যও পর্যবেক্ষণযোগ্য। তবে এ ঘটনায় বাংলাদেশে বন্যা হবে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।
ভুটানের পরিস্থিতি, ভারতের নদীগুলোর পানির উচ্চতা এবং ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার প্রবাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্পের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের পরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স
ইয়েমেনে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ হুথিদের বিরুদ্ধে
ইসরায়েলি নির্বাচনে ঝুলন্ত নেসেট: নেতানিয়াহু জোটের বড় ধাক্কা