উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চায় ৩ দেশ

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান আবারও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। দেশটির সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে তিন দেশ। তবে পিয়ংইয়ং বারবারই পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের প্রস্তাব নাকচ করে আসছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে তিন দেশের শীর্ষ কূটনীতিকেরা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে তাঁরা দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে অর্থায়নে সহায়তা বন্ধের বিষয়টিও রয়েছে।

তিন দেশের এই অবস্থান এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে একাধিকবার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রথম মেয়াদে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ঐতিহাসিক কয়েকটি বৈঠক করেছিলেন। এখনো কিমকে ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির বাইরে গিয়ে ট্রাম্প স্বীকার করেছিলেন, উত্তর কোরিয়া একরকম পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগও কিছুটা কমিয়ে দেখিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে কিমের সঙ্গে আবার বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

আগামী মাসে চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনে ট্রাম্পের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ওই সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার আবার বৈঠক হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

বিশ্লেষক ও দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, সম্প্রতি চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদং সফরের সময় কিম জং উন ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে পিয়ংইয়ংয়ের অবস্থান বেইজিংকে জানিয়ে থাকতে পারেন।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনামূলক নমনীয় অবস্থানের প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং শর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি ইঙ্গিত দেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি বন্ধের পরিবর্তে আগে কর্মসূচিটি স্থগিত রাখার বিষয়ে ওয়াশিংটনের আলোচনা করা উচিত। এর বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।

তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের উদ্যোগের ফলে উত্তর কোরিয়াকে কার্যত পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ না করেই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে পিয়ংইয়ং।

দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকলেও রাশিয়া ও চীনের সমর্থনপুষ্ট উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের অবস্থান আইনে অন্তর্ভুক্ত করেছে। দেশটির সরকার পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারকে স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় বলে ঘোষণা করেছে।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণকারী কয়েকটি দেশের শনিবারের যৌথ বিবৃতিরও নিন্দা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। দেশটির বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রচলিত নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না।

সূত্র: আল-জাজিরা