ইউক্রেনের কাছে ২১০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র বিক্রি করবে যুক্তরাষ্ট্রে

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৬ এএম

ইউক্রেনের কাছে ২১০ কোটি ডলার (২.১ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের ৫০০টি প্যাট্রিয়ট PAC-3 ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ অনুমোদনের কথা জানায়। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর উৎপাদন এখনো শুরু না হওয়ায় ইউক্রেনকে এগুলো পেতে ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে এটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে আরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক চেয়ে আসছে। দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা দেশটির অন্যতম কার্যকর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

গত সোমবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের অনুমোদনের জন্য প্রায় এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অপেক্ষায় রয়েছে কিয়েভ। এ সময় রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করেছে।

তবে অনুমোদন মিললেও দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনো তৈরি হয়নি। ফলে ২০৩০-এর দশকে প্রবেশের কয়েক বছর পর সেগুলো সরবরাহ করা হতে পারে।

একটি সূত্রের মতে, সরবরাহের সময় এগিয়ে আনতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের সঙ্গে আলোচনা করছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রভান্ডারে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমে ইউক্রেনকে দেওয়া এবং পরে নতুন উৎপাদিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র কেনার অর্থ আসবে কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অবদান থেকে। এসব অর্থ ‘ইউএস জাম্পস্টার্ট’ (US JUMPSTART) কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত ইউক্রেন সাপোর্ট লোন থেকে অর্থায়ন করা হবে।

পেন্টাগনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেনের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে মিত্র দেশগুলোর অনুদান দিয়ে অস্ত্র, সামরিক সেবা ও প্রশিক্ষণ কেনার ব্যবস্থা হলো এই কর্মসূচি।

গত আগস্টে একই কর্মসূচির আওতায় জোন ফাইভ টেকনোলজিস ও কোঅ্যাস্পায়ারের তৈরি ৩ হাজার ৩৫০টি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য ৮২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছিল।

এই বিক্রির প্রধান ঠিকাদার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।

যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব সামরিক অভিযানে এবং মিত্রদের অস্ত্র সরবরাহে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। ইরানে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি অন্যান্য দেশে অস্ত্র সরবরাহের কারণে গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ও নির্ভুল নিশানাভিত্তিক অস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত জুলাইয়ে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য লকহিড মার্টিনকে সর্বোচ্চ ৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি দেয় মার্কিন সেনাবাহিনী।

লকহিড জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ PAC-3 MSE ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের ক্যামডেন কারখানায় কর্মীর সংখ্যা ১ হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ হাজার ৮৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে প্রতিষ্ঠানটি বছরে ২ হাজারটি প্যাট্রিয়ট PAC-3 ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছিল।

এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়াতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ দিচ্ছে পেন্টাগন। চলতি বছরের শুরুতে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে প্রাথমিক চুক্তি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, ৩০ অক্টোবর ২০২৬।

এমএজেড
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত