স্থিতিশীল ইয়েমেন ছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্ভব নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইয়েমেনে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুবা।

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অনুষ্ঠিত ‘মানামা ডায়ালগ’ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার করা শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি একটি সম্মিলিত দায়িত্ব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আল-জুবা বলেন, ‘স্থিতিশীল ইয়েমেন ছাড়া টেকসই আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্ভব নয়। আর দেশের পুরো ভূখণ্ডের ওপর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ছাড়া স্থিতিশীল ইয়েমেন গড়ে উঠতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ ও শান্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা একমাত্র বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে থাকতে হবে।

এ সময় ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর তাইজে হুতিদের চলমান অবরোধেরও তীব্র নিন্দা জানান তিনি। এই অবরোধকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে তা প্রত্যাহারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন।

লোহিত সাগর উপকূল ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা

ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের সংঘাত গত সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে তীব্র হয়েছে। ওই সময় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা দখলে নেয়। এর জবাবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক বাহিনী পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে।

এই অভিযানে সৌদি আরব ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হুতিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের এই সংঘাত এখন আর কেবল দেশটির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। লোহিত সাগরের নৌপথ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সৌদি আরব-ইরান ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গেও এটি গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত বাড়লে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।