যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার মহড়ার জবাবে পরমাণু অস্ত্র বাড়াবে উত্তর কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে পিয়ংইয়ংকে লক্ষ্য করে পরমাণু যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে উত্তর কোরিয়া। এর জবাবে পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা আরও দ্রুত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম উপপরিচালক কিম জং-সিক বলেছেন, জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতির অংশ হিসেবে পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা জোরদারের কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না পিয়ংইয়ং।

সোমবার (২ নভেম্বর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সিতে (কেসিএনএ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন কিম। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া এমন সামরিক মহড়া চালাচ্ছে, যার লক্ষ্য উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া।

‘আমাদের পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা জোরদারের প্রতিরক্ষা নীতিতে সামান্যতম পরিবর্তন আসবে না’ শিরোনামের ওই বিবৃতিতে বিশেষভাবে ‘আয়রন মেস’ নামের যৌথ মহড়ার সমালোচনা করা হয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত গোপনে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সক্ষমতার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত সামরিক শক্তির সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

কিম এই মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের লক্ষ্যে পরিচালিত ‘সবচেয়ে ভয়ংকর পারমাণবিক যুদ্ধের মহড়া’ বলে আখ্যা দেন। তার দাবি, প্রতিবছর এ ধরনের সামরিক মহড়া আয়োজনের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি নিজেদের বৈরী মনোভাবেরই প্রমাণ দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করছে।

বিবৃতিতে কিম বলেন, শক্তিই শান্তি, এই বাস্তবতা আবারও সামনে এসেছে। তার ভাষ্য, কেবল শক্তির মাধ্যমেই শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান ও সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়া দ্রুতগতিতে নিজেদের পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে যাবে। এই নীতিকে অপরিবর্তনীয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল থেকে প্রতিবছর ‘আয়রন মেস’ মহড়া আয়োজন করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউক্লিয়ার কনসালটেটিভ গ্রুপের যৌথ নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই মহড়া পরিচালিত হয়। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় দুই দেশের যৌথ প্রতিরোধব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করাই এর উদ্দেশ্য। সূত্র: প্রেস টিভি