ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অবশেষে এক টেবিলে বসেছেন চার বিরোধী ইহুদি দলের শীর্ষ নেতারা।
মঙ্গলবার হার্জলিয়ায় আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দ্রুত জোট গঠন ও নতুন সংসদীয় কৌশল নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া কীভাবে সরকার দাঁড়াবে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতানিয়াহু তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন। বর্তমানে তার জোটের দখলে রয়েছে ৫৩টি আসন, বিপরীতে চার ইহুদি বিরোধী দলের ঝুলিতে ৪৮টি।
ক্ষমতায় যেতে বিরোধীদের মোট আসনের জন্য প্রয়োজন দুটি আরব দলের ১৯টি আসনের সমর্থন। কিন্তু ইহুদি নেতারা আরবদের জোটে নিতে দ্বিধান্বিত হওয়ায় সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে।
বৈঠক শেষে যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকট, নাফতালি বেনেট, ইয়ার গোলান ও আভিগদর লিবারম্যান দ্রুততম সময়ে নেতানিয়াহু সরকারকে বিদায় জানানোর দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তারা আইজেনকটের চার মূল নীতির ভিত্তিতে নতুন জাতীয় জরুরি সরকার গঠনে কাজ করবেন বলে জানান। নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা, সবার জন্য সামরিক সেবা ও হামাসের প্রশাসনিক অবসান।
বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদও উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, বিরোধী দলগুলোর প্রথম কাজ হবে লিকুদ দলের আমির ওহানাকে সরিয়ে লাপিদকে স্পিকার বানানো।
স্পিকার বদল হলে ৭ অক্টোবরের হামাস আক্রমণ নিয়ে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনসহ নেতানিয়াহু-আটকানো একাধিক বিল দ্রুত পাস করা সম্ভব হবে।
এছাড়া প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার জন্য যৌথভাবে সুপারিশ করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী দলগুলো।
অন্যদিকে, নির্বাচনের ফলাফল বিতর্কিত করার জন্য নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদ পার্টির তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী নেতারা একে গণতন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে আখ্যা দেন।
তবে লিকুদ পার্টির পাল্টা দাবি, নির্বাচন প্রভাবিত করতে বিদেশি শক্তিগুলো অর্থ ঢেলেছে। কিন্তু এই অভিযোগের পক্ষে তারা কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
আইজেনকটকে পূর্ণ সমর্থনের বার্তা দিয়ে নাফতালি বেনেট স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান মুহূর্তে আর সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে ডেমোক্র্যাটস পার্টির ইয়ার গোলান প্রকাশ্যে আরব দলগুলোর সাথে কথা বলেছেন এবং সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন পথ খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তবে আভিগদর লিবারম্যান মনে করেন, কোনো আরব দলের সহায়তা ছাড়াই একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল সরকার পরিচালনা করা সম্ভব।
বিরোধীদের তৎপরতার জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, বিরোধীরা সন্ত্রাসী সমর্থকদের ওপর নির্ভর করে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক সরকার গঠনের পাঁতারা করছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে নেতানিয়াহু এখন বিরোধীদের পথ আটকানোর চেষ্টা করছেন, যা দেশকে আবার নতুন আরেকটি নির্বাচনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল