ইসরায়েলে বার্ষিক মার্কিন অনুদান বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ এএম

চলতি ২০২৬ সালের শেষের পর থেকে ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক আর্থিক সাহায্য বা অনুদান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

ফক্স নিউজ-এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস'-এ দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন প্রতি বছর ইসরায়েলকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেয়। তবে কয়েক মাস আগেই নেতানিয়াহুর সাথে যৌথ আলোচনার মাধ্যমে চলতি বছর শেষে এই অনুদান কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করার ব্যাপারে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

তবে এই নিয়মিত বার্ষিক আর্থিক সাহায্য বন্ধ হলেও, ভবিষ্যতে কোনো বিশেষ জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজন পড়লে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করবে কি না বা কীভাবে সাহায্য করবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে এককভাবে সমর্থন ও সহায়তা দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা সমালোচনার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট ও কট্টর সমালোচকদের রাজনৈতিক চাপ এড়াতে এই সমঝোতা বড় ভূমিকা রাখছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও দাবি করেন, অনুদান বন্ধের এই উদ্যোগটি মূলত নেতানিয়াহু নিজেই উত্থাপন করেছিলেন। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের খাতিরে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতভেদ দূর করতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিজেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর্থিক সাহায্য না নেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেছেন।

তবে মার্কিন আইনি কাঠামো অনুযায়ী, এই সহায়তা বাজেট মার্কিন কংগ্রেস কর্তৃক অনুমোদিত ও বরাদ্দকৃত। তাই ট্রাম্প এককভাবে এটি সরাসরি পুরোপুরি বাতিল করতে পারেন কি না, তা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে সংশয় রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এটিকে নির্বাচনের চূড়ান্ত মুহূর্তে ভোটারদের আকর্ষণ করার কৌশল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক জরিপ ও তথ্য অনুযায়ী, গাজা সংঘাতের পর থেকে মার্কিন সাধারণ জনগণের একাংশের মধ্যে ইসরায়েলকে সাহায্য দেওয়ার বিষয়ে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল। প্রতিনিধি পরিষদে বিভিন্ন সময় অনুদান কমানোর বিল উত্থাপিত হলেও, আন্তর্জাতিক ও মার্কিন রাজনীতির জন্য ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক অবস্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও পরিবর্তনশীল বলে মনে করা হচ্ছে।

৩সূত্র: আল জাজিরা

এইচএন
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত