যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষের দুই বছরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ মূলত নির্ভর করছে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। মঙ্গলবার দেশটির ভোটাররা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নতুন সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোট দেবেন।
যদি এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নির্ধারণ এবং আইন প্রণয়নের পথ বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে এবারের নির্বাচনকে বর্তমান প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জনসমর্থনে ভাটা এবং ইরান সংকটকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি দলটির জন্য বড় ধরনের নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট। বিশেষ কিছু আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ফলই চূড়ান্ত করবে কার হাতে থাকবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ।
জনমত জরিপ অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ট্রাম্পের জনসমর্থন ভালো থাকলেও তা ক্রমান্বয়ে কমে বর্তমানে প্রায় ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে। অতীতে দেখা গেছে, মার্কিন ইতিহাসে মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন দল প্রতিনিধি পরিষদে আসন হারায়।
এই ঐতিহাসিক ধারা এবং ট্রাম্পের কমে যাওয়া জনসমর্থন ডেমোক্র্যাট শিবিরকে বেশ আশাবাদী করে তুলেছে। এমনকি যেসব রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানরা জয় পেয়ে আসছে, সেখানেও জয়ের সম্ভাবনা দেখছে তারা।
প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই এবার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে মাত্র ১৮টি আসনে ফলাফল নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা রয়েছে। অন্যদিকে, সিনেটের ৩৫টি আসনের লড়াইয়েও হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ভোটারদের রায়ে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতি। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চাপে ফেলেছে।
অর্থনৈতিক ও জনসমর্থনের দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও নির্বাচনী তহবিলের শক্তিতে এগিয়ে রয়েছে রিপাবলিকানরা। বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় বিপুল অর্থ ব্যয় করে ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দলটি।
এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল কেবল ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি সময়কার নীতিনির্ধারণই ঠিক করবে না, বরং ২০২৮ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শক্তির অবস্থানও স্পষ্ট করে তুলবে।