আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের সঙ্গে করা একটি চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে চুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৬ জন আইনপ্রণেতা। বিপক্ষে কেউ ভোট না দিলেও সাতজন ভোটদানে বিরত ছিলেন।
গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে চুক্তিতে সই করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন।
সম্পদসমৃদ্ধ বিশাল এই দ্বীপ দখলের বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। এর মধ্যেই কয়েক মাসের গোপন আলোচনার পর চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।
চুক্তির অনুমোদনকে স্বশাসিত গ্রিনল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুটে এগেদে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই পর্যায়ে পৌঁছানোর পথ গ্রিনল্যান্ডের জনগণের জন্য কঠিন ছিল। তবে তারা নিজেদের মৌলিক নীতিতে অটল থেকেছেন, আলোচনার পথ বেছে নিয়েছেন এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি সবার জন্য—তাদের প্রিয় গ্রিনল্যান্ড, নিরাপত্তা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৫৭ হাজার।
গত বছর গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। এতে দ্বীপটির বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যেতে চান না।
নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি দ্বীপটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা পিতুফিক স্পেস বেসে নিজেদের কার্যক্রম আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করতে পারবে ওয়াশিংটন।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। তবে ভবিষ্যতে দ্বীপটি স্বাধীনতা অর্জন করলেও চুক্তিটি কার্যকর থাকবে।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, ডেনমার্কের রাজ্যের প্রয়োজনীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার পরই এটি কার্যকর হবে। এ মাসের শেষ দিকে ডেনমার্কের আইনপ্রণেতারা চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে চুক্তির অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সম্মতির প্রয়োজন নেই।
সূত্র: আল-জাজিরা