যুদ্ধে জড়ায় যুক্তরাষ্ট্র, খরচ সামলায় কারা?

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতে শুধু ওয়াশিংটনই নয়, অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে আটলান্টিকের দুই পারের দেশগুলোও। আট মাসের এই সংঘাতে মার্কিন সামরিক খাতে ব্যয় পৌঁছেছে রেকর্ড ৪৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে। 

এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ইউরোপের অতিরিক্ত খরচ হয়েছে ১০০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি।

মিডলইস্ট মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস জানিয়েছেন যে এই যুদ্ধের আর্থিক বোঝা এখন আর কেবল আমেরিকার একার নয়। 

মার্কিন সেন্টকমের হিসাব বলছে, এই বিপুল অর্থের সিংহভাগই নতুন অস্ত্র তৈরিতে নয়, বরং যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত অস্ত্রভান্ডার ও ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় ক্রয়ে ব্যয় হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, প্রথম ছয় মাসে ২৪টি ঘাঁটির শতাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মেরামতে ৫ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। 

প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো পুনরায় তৈরি ও সরবরাহ করাও পেন্টাগনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় মিত্ররা। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা যুক্তরাষ্ট্রকে অনিশ্চিত মিত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এমনকি উপসাগরীয় দেশগুলোও নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। 
যুদ্ধের এই ধাক্কা সরাসরি আঘাত হানছে সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খরচেও।

সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর