মার্কিন কংগ্রেসে ইতিহাস গড়লেন ৭ মুসলিম আইনপ্রণেতা

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—দুই কক্ষেই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছেন অন্তত সাতজন মুসলিম প্রার্থী। 

স্বাস্থ্যসেবা, নাগরিক অধিকার এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রচার চালিয়ে তারা নিজেদের আসনে বিজয় নিশ্চিত করেন। একইসঙ্গে গাজায় চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে এই আইনপ্রণেতারা শুরু থেকেই জোরালো কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত।

এই নির্বাচনের মাধ্যমে মার্কিন আইনসভায় দলগত শক্তিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রিপাবলিকানদের পেছনে ফেলে ডেমোক্র্যাটরা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—দুই কক্ষের ওপরই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। বিজয়ী প্রার্থীরা আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা, মানবিক সহায়তা প্রসার এবং ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা প্রদানের নীতির কঠোর সমালোচক ছিলেন।

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ

মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে হারিয়ে মার্কিন ইতিহাস গড়েছেন। ৪২ বছর বয়সী এই চিকিৎসকই প্রথম মুসলিম প্রতিনিধি, যিনি সিনেটে নিজের আসন নিশ্চিত করতে সক্ষম হলেন। কট্টর রাজনৈতিক আক্রমণ মোকাবিলা করেই তিনি এই অনন্য সাফল্য অর্জন করেন।

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আদম হামাউয়ি

একইভাবে নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আদম হামাউয়ি প্রথম মুসলিম প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ৫৬ বছর বয়সী প্রাক্তন সামরিক চিকিৎসক ও প্লাস্টিক সার্জন হামাউয়ি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, ঋণ মওকুফ এবং গাজায় সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে জোরালো বার্তা দিয়ে জয় লাভ করেন।

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে

নিউইয়র্কের আসন থেকে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে, যিনি প্রাথমিক নির্বাচনে সাবেক দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিলেন। ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়া এই তরুণ নেত্রী ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সংগঠিত করে ব্যাপক সাড়া ফেলেন।

নতুনদের পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদে নিজেদের আসন ধরে রেখেছেন আরও চার পরিচিত মুসলিম মুখ। 

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাশিদা তালিব

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট রাশিদা তালিব মিশিগানের ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী জেমস হুপারকে পরাজিত করেন।

কংগ্রেসের একমাত্র ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সদস্য তালিব। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করা, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।

 ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ইলহান ওমর

ডেমোক্র্যাট ইলহান ওমর মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ডিভেল জ্যাকসনকে পরাজিত করেন।

১২ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন ওমর। ২০১৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার মধ্য দিয়ে দেশটির প্রথম সোমালি-আমেরিকান ফেডারেল আইনপ্রণেতা হন তিনি।

মানবিক সহায়তা বাড়ানো এবং ইসরাইলসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের ওপর নজরদারির পক্ষে কথা বলেছেন ওমর। নিজের পরিচয় ও অতীতের কারণে তাঁকে বারবার রাজনৈতিক আক্রমণের মুখেও পড়তে হয়েছে।রাজনৈতিক খবর পড়ুন

 ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আন্দ্রে কারসন

ডেমোক্র্যাট আন্দ্রে কারসন ইন্ডিয়ানাপোলিসভিত্তিক সপ্তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের আসন ধরে রেখেছেন। তিনি রিপাবলিকান প্যাট্রিক ম্যাকঅলিকে এবং লিবার্টারিয়ান প্রার্থী জেমস সেনিয়াককে পরাজিত করেন।

২০০৮ সাল থেকে কংগ্রেসের সদস্য কারসন প্রতিনিধি পরিষদে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা মুসলিম আইনপ্রণেতা।

তাঁর নীতিগত অবস্থানের কেন্দ্রে রয়েছে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠান, মানুষের সমান মর্যাদা এবং মানবিক সহায়তা।

 ডেমোক্র্যাট প্রার্থী লতিফা সিমন

ডেমোক্র্যাট লতিফা সিমন ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্ট বে এলাকার ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি একই দলের প্রার্থী জেমি জয়েসকে পরাজিত করেন।

ইসরায়েলকে আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের পক্ষে কথা বলেছেন সিমন।

এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার আরেকটি কংগ্রেশনাল আসনে মুসলিম প্রার্থী আয়েশা ওয়াহাবও গণনা চলার সময় প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে ছিলেন।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

এইচএন
আরও পড়ুন