ট্রাম্পের পরাজয়ে শেয়ারবাজারে বিপর্যয়ের আশঙ্কা মাস্কের 

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে বিপুল অর্থ ঢালেও চরম ধাক্কা খেয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। নির্বাচনে দলটির বড় পরাজয়ের পর এখন কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে মাস্কের বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এবার ব্যাপক তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মাস্ক রিপাবলিকানদের প্রচারে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার এবং ট্রাম্পের জয়ের জন্য ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছিলেন। এমনকি নিজের আবাসস্থল টেক্সাসেও রিপাবলিকান প্রভাব ধরে রাখতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেন তিনি। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা জয়লাভ করে।

ভোটের এমন ফলের পর মাস্কের টেসলা ও স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। নির্বাচনের পরপরই প্রাক্-বাজার লেনদেনে স্পেসএক্সের শেয়ার ৩.৮ শতাংশ এবং টেসলার শেয়ার ৩.৬ শতাংশ কমে গেছে। এতে করে স্পেসএক্সের পরিকল্পিত আইপিও এবং ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের মতো মূল উদ্যোগগুলো বড় বাধার মুখে পড়তে পারে।

কংগ্রেসের নতুন ক্ষমতা হাতে পেয়ে প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান রবার্ট গার্সিয়া কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সরকারি চুক্তি, বিপুল ভর্তুকি এবং কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিতে মাস্কের প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমন জারি ও নথি তলব করতে পারে এই শক্তিশালী কমিটি।

তবে এই তদন্তের আশঙ্কায় পিছিয়ে আসার পাত্র নন ইলন মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মাস্ক লেখেন, যারা তার সাথে বিরোধে জড়াবে, তাদের পেছন থেকে কারা কলকাঠি নাড়ছে তা তিনি খুঁজে বের করবেন এবং মূল ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।

সূত্র: এনডিটিভি