যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জনের একমাত্র পথ হলো সর্বাত্মক উন্নয়নের মাধ্যমে ইরানকে আরও শক্তিশালী করে তোলা। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও সামাজিক সম্প্রীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ‘বিশ্ব আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। ইরানের জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকদের সব কর্মকাণ্ডে এই চেতনা ধারণের আহ্বান জানান তিনি।
মোজতবা খামেনি বলেন, ‘পরম প্রতিরোধ সক্ষমতায় পৌঁছানোর একমাত্র পথ হলো সর্বাত্মক অগ্রগতির ধারায় “আরও শক্তিশালী ইরান” গড়ার কৌশল অব্যাহত রাখা। এই পথে সফলতার প্রধান ভিত্তি জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও সামাজিক সম্প্রীতি। জাতি ও রাষ্ট্রের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত আচরণে এসব বিষয় প্রতিফলিত হতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইরানি জনগণের প্রতিরোধের ফলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শুধু ৪ নভেম্বর নয়, বরং বছরের প্রতিটি দিন ও মুহূর্তই এখন ‘মহাশয়তানের’ বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দিন।
পারস্য উপসাগর ও বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি যুক্তরাষ্ট্রের অজেয় হওয়ার প্রচলিত ধারণার অসারতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে নিজস্ব জনগণের পরিবর্তে বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীল সরকারগুলোর দুর্বলতা এবং তাদের রক্ষায় বৃহৎ শক্তিগুলোর অক্ষমতাও স্পষ্ট হয়েছে।
মোজতবা খামেনির দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ও অপরাধের জবাবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে পাল্টা পদক্ষেপের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে।
ফিলিস্তিন ও লেবানন থেকে শুরু করে ইরাক ও ইয়েমেন পর্যন্ত প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তাঁর মতে, এসব ঘটনা প্রতিরোধ ফ্রন্টের শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা দলীয় ক্ষমতার পালাবদলের মাধ্যমে ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন আসবে—এমন প্রত্যাশার সমালোচনা করেন মোজতবা খামেনি।
তিনি বলেন, যারা এখনো মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে দেশটির আচরণ বদলে যাবে, কিংবা ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে ইরানের প্রতি মার্কিন বৈরিতা দূর করা সম্ভব, তাঁরা গুরুতর ভুল করছেন।
তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ইরানি জনগণের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ নিশ্চিত করা। শত্রুর প্রতি সামান্যতম নতি স্বীকারও শহীদদের রক্ত ও জনগণের আত্মত্যাগে অর্জিত সম্পদ নষ্ট করতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর দাবি ও আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস পাবে।