বিপক্ষ শক্তিকে অস্ত্রের পাল্লা দিয়ে বিচার করলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ভুল করবে: জেনারেল গানী

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিরোধশক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গড়ে তুলেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল ইসমাইল গানী। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিরোধশক্তির সক্ষমতা কেবল তাদের অস্ত্রের পাল্লা দিয়ে বিচার করলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ভুল করবে।

বুধবার সেপাহ নিউজ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল গানী বলেন, প্রতিরোধ ফ্রন্ট এখন বিভিন্ন রণাঙ্গনে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তাদের কৌশলগত বিস্তৃতি অস্ত্রের সক্ষমতা ও পাল্লার চেয়েও অনেক বেশি।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বজ্ঞানহীন নেতাদের বুঝতে হবে, বর্তমানে পুরো প্রতিরোধ ফ্রন্ট বিভিন্ন রণাঙ্গনে ঐক্যবদ্ধ একটি শক্তি। তাই শুধু অস্ত্রের পাল্লা দিয়ে এই ফ্রন্টের গভীরতা নির্ধারণ করবেন না; প্রতিরোধশক্তির কৌশলগত বিস্তৃতিও বিবেচনায় নিতে হবে।’

গানী আরও বলেন, তা না হলে যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালিতে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করতে হবে, আর একই সময়ে প্রতিরোধশক্তির কারণে বাব আল-মান্দাব প্রণালিও তাদের জন্য নতুন সংকটের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এবং এর ফলে হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দায়ী করেন কুদস ফোর্সের এই কমান্ডার। তাঁর দাবি, নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় পড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি নিয়েছেন।

গানীর ভাষ্য, এর পরিণতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছরের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে দেশটি পরাজয়ের মুখে পড়েছে। হরমুজে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে বাব আল-মান্দাব প্রণালিতেও ক্ষতির মুখে ফেলতে ‘বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করা প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার বার্তার পরও যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ নিয়ে তার ‘বেপরোয়া জুয়া খেলার আচরণ’ অব্যাহত রাখে, তাহলে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ফ্রন্ট পরিকল্পিত ও হিসাব-নিকাশ করে স্থলভাগসহ কৌশলগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের আঘাত হানতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। অন্যদিকে বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। বিশ্ব জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই নৌপথকে ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়লে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এমইউ
আরও পড়ুন