ইরান যুদ্ধের ‌'খলনায়ক' মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের ভবিষ্যৎ কী হবে? 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা নাকচ করেছে পেন্টাগন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শন পারনেল জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে হেগসেথ ‘১০০ শতাংশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ফক্স নিউজকে শন পারনেল বলেন, প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছেন হেগসেথ।

তিনি আরও বলেন, ‘দলীয় রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা কিংবা কোনো অন্যায় না থাকা সত্ত্বেও ভিত্তিহীন তদন্ত শুরু করতে চাওয়া রাজনীতিকদের কারণে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিছিয়ে যাবেন না।’

পারনেলের দাবি, পেন্টাগন আইন মেনেই কাজ করেছে এবং ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের হুমকি সত্ত্বেও ট্রাম্পের কর্মসূচি বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর হেগসেথের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে বলে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক পরিণতির জন্য হেগসেথকে দায়ী করতে পারেন ট্রাম্প। কারণ, প্রেসিডেন্ট এর আগে তাঁকে ইরানে সামরিক অভিযানের প্রাথমিক সমর্থকদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন হামলার বিষয়টিও প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে। ফলে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত ও এর রাজনৈতিক দায় নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

হেগসেথকে দায়িত্ব থেকে সরানোর কথা ভাবছেন কি না—বুধবার সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প তাঁর কাজের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘তিনি খুব ভালো কাজ করছেন।’

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এবং পেন্টাগনের মুখপাত্রের ঘোষণা—দুটিই হেগসেথের পদে থাকার বিষয়ে প্রশাসনের প্রকাশ্য অবস্থান তুলে ধরেছে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্ত, সামরিক ব্যয় এবং পেন্টাগনের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত ও শুনানির উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে তদন্তের হুমকি থাকলেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ পরিবর্তন হবে, এমন নয়।

হেগসেথের দায়িত্বে থাকা এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান—দুটি বিষয়ই এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে। পেন্টাগন আপাতত তাঁর দায়িত্ব অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিলেও ভবিষ্যতে কংগ্রেসের তদন্ত বা যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি কী প্রভাব ফেলে, তা দেখার বিষয়।