মুসলিম পর্যটনের বিশ্বমঞ্চ হতে চায় মালয়েশিয়ার পাহাং

আন্তর্জাতিক পর্যটন অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্য। মুসলিমবান্ধব পর্যটনের অন্যতম শীর্ষ বৈশ্বিক গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে রাজ্যটিতে শুরু হয়েছে ‘বিশ্ব ইসলামিক পর্যটন সম্মেলন (ডব্লিউআইটিসি) ২০২৬’।

মালয়েশিয়ার কুয়ানতানের জেনিথ হোটেলে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের জমকালো উদ্বোধন করা হয়। পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টার (আইটিসি) এবং পাহাং রাজ্য সরকার যৌথভাবে এই বিশেষ আসরের আয়োজন করেছে।

বিশ্বের ৩৫টিরও বেশি দেশ থেকে দেড় শতাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, পর্যটন উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারক এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল ভ্রমণ খাতের বিকাশই ঘটাবে না, বরং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাহাংয়ের মুখ্যমন্ত্রী দাতো শ্রী দিরাজা হাজি ওয়ান রোজদি ওয়ান ইসমাইলের পক্ষে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন নির্বাহী পরিষদ চেয়ারম্যান দাতো শ্রী ইর হাজি মোহাম্মদ সোফি। তিনি জানান, স্থানীয় উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে ‘পাহাং ফার্স্ট’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সম্মেলনের মূল বার্তা ছিল ‘সীমান্তের ঊর্ধ্বে বিশ্বাস ও পরিবার’। এখানে উল্লেখ করা হয়, পর্যটন শুধু ঘুরে বেড়ানোর বিষয় নয়; বরং বিভিন্ন সংস্কৃতি ও মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।

দুই দিনের এই আয়োজনে জেনারেটিভ এআই, ওমরাহর ভবিষ্যৎ, হালাল খাদ্যসংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির মতো ১৩টি সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা নির্ধারিত হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন অবকাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বিশেষ করে কিংস পার্ক গেন্টিং হাইল্যান্ডস, কানাডাভিত্তিক হালালি অ্যাপ এবং চীনের হালাল সার্টিফিকেশন সংস্থার সাথে চুক্তিগুলো উল্লেখযোগ্য। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক প্রচারণা এবং উন্নত হালাল পর্যটন পরিবেশ নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিশ্ব ইসলামিক পর্যটন সম্মেলনের মাধ্যমে পাহাংয়ের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্ভাবনা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নতুন মাত্রা পাবে। একই সাথে মুসলিমবান্ধব পর্যটন খাতে বড় ধরণের বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।