যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব থাকলেও অধিকাংশের কাছে এটি প্রধান নির্বাচনী ইস্যু ছিল না। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
দেশজুড়ে এক লাখের বেশি ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত এ জরিপে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি দুর্নীতি ভোটারদের কাছে ইরান যুদ্ধের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
জরিপ অনুযায়ী, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার জানিয়েছেন, কংগ্রেস নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন, তা নির্ধারণে ইরান যুদ্ধ তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অন্যদিকে, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি দুর্নীতিকে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন প্রায় অর্ধেক ভোটার।
তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মনে করেন প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার। তাঁদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না।
দলীয় সমর্থনের ভিত্তিতেও এ বিষয়ে ভোটারদের অবস্থানে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। স্থানীয় প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া প্রায় সব ভোটারই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে ভুল সিদ্ধান্ত বলেছেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার সামরিক পদক্ষেপকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন।
জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার পেট্রল ও ডিজেলের দাম নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। এই উদ্বিগ্ন ভোটারদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। নির্বাচনের ফলাফলে যুদ্ধের পাশাপাশি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলেছে, জরিপের ফলাফলে তারও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা