প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট পেনিয়াকে অভিশংসন, গৃহবন্দি

ব্যাংক ধসের জেরে সৃষ্ট আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে অভিশংসন করে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিজ দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতাসহ পার্লামেন্ট সদস্যরা তাঁকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে বৃহস্পতিবার পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন পেনিয়া। তবে তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ না করে অভিশংসন ও অসদাচরণের অভিযোগে বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে তিনি আজীবনের জন্য সিনেট সদস্য থাকার সুযোগ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাওয়া দায়মুক্তিও হারিয়েছেন।

গত বছর পর্যন্ত ব্যাংকটির মালিকানা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ছিল পেনিয়ার হাতে। তবে এ ঘটনায় কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডিজিটাল ব্যাংক উয়েনো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশটির অর্ধেকেরও বেশি মানুষ নিজেদের সঞ্চয় ব্যবহার করতে পারছেন না। প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। আনুমানিক ৩০ লাখ আমানতকারী তাঁদের সঞ্চয় ও পেনশনের অর্থ তুলতে পারছেন না। এ নিয়ে রাজধানী আসুনসিওনসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

পেনিয়াকে অভিশংসনের পক্ষে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি স্বার্থের সংঘাত তৈরি করেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছেন, পেনশন তহবিলের অর্থ সরিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঘিরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

প্রসিকিউটর সিলভিয়া মার্গারিতা গঞ্জালেজ ভেস্টার জানিয়েছেন, আস্থাভঙ্গ, প্রভাব খাটানো এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শনিবার পেনিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে।

অভিশংসনের প্রস্তাবের পক্ষে সিনেটের ৪৫ সদস্যের মধ্যে ৪৪ জন ভোট দেন। একজন সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। ভোট শেষে সিনেটের সভাপতি বাসিলিও নুনিয়েজ জানান, দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে পেনিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এরপর দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ নেওয়ার পর আলিয়ানা বলেন, আর্থিক ধসের কারণে যেসব নাগরিক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

সিনেটর রাফায়েল ফিলিজোলা বলেন, ‘আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্নীতির কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হয়েছি। এটি রাষ্ট্র, সাধারণ নাগরিক এবং দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভাবমূর্তির ওপর বড় আঘাত।’

বিশ্লেষকদের ধারণা, ব্যাংকটির পতনের ঘটনায় এবার পেনিয়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হতে পারে। তবে তাঁর আইনজীবী রিকার্দো প্রেদা অভিযোগগুলোকে ‘বেপরোয়া, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সুযোগসন্ধানী’ বলে মন্তব্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পেনিয়া দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা কখনোই আমার উদ্দেশ্য ছিল না।’

সূত্র: বিবিসি