যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর বিচার বিভাগে (ডিওজে) শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের ঘটনা বাড়ছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পদত্যাগ করেছেন দেশটির বিচার বিভাগের আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। তারা হলেন- জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান জন আইজেনবার্গ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অতীতের ফৌজদারি তদন্তগুলো খতিয়ে দেখার দায়িত্বে থাকা জেসন রেডিং কুইনোনেস।
এর এক দিন আগে, বৃহস্পতিবার নাগরিক অধিকারবিষয়ক ইউনিটের প্রধান হারমিত ধিল্লন পদত্যাগ করেন। ধারাবাহিক এসব পদত্যাগের ফলে বিচার বিভাগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ এখন নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে। এর একটি হলো ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অতীতের তদন্তগুলো নতুন করে খতিয়ে দেখা এবং অন্যটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে নেওয়া কার্যক্রম।
কুইনোনেস কিংবা আইজেনবার্গ কেন পদত্যাগ করেছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের পদত্যাগের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের জন্য বড় ধরনের নির্বাচনি বিপর্যয়ের পর এমনটি দেখা যায়। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানো ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসন এবং তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক তদন্ত শুরু করার পরিকল্পনা করছে।
ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্তে বিচার বিভাগকে ব্যবহারের প্রচেষ্টার কেন্দ্রে ছিলেন কুইনোনেস। তার কার্যালয়কে ২০২১ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর ট্রাম্পের গোপনীয় নথি ব্যবস্থাপনা এবং ২০১৬ সালের নির্বাচনে তার নির্বাচনি প্রচারশিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগসহ অতীতের বিভিন্ন ফৌজদারি তদন্ত খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
এসব তদন্তের লক্ষ্য ছিল, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন, এমন অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করা। তবে এখন পর্যন্ত ওই তদন্তের সরাসরি ফল হিসেবে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তদন্তের তত্ত্বাবধানে থাকা কৌঁসুলি জোসেফ ডি জেনোভাও গত সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন।
মায়ামির শীর্ষ ফেডারেল কৌঁসুলি হিসেবে কুইনোনেসের দায়িত্ব পালনের সময় তার কার্যালয় থেকে কয়েক ডজন কৌঁসুলি চলে যান। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনাকারী কয়েকজন কৌঁসুলিকেও বরখাস্ত করা হয়েছিল।
ভেনেজুয়েলা ও কিউবার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ প্রয়োগের কার্যক্রমেও কুইনোনেসের কার্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাবেক কিউবান প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগও আনা হয় ওই কার্যালয় থেকে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া ব্যবসায়ী অ্যালেক্স সাবের বিরুদ্ধে মামলাও পরিচালনা করছে কার্যালয়টি। গত মে মাসে সাবকে ভেনেজুয়েলা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, আইজেনবার্গ তুলনামূলকভাবে আড়ালে থাকলেও তার নেতৃত্বাধীন জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ বিচার বিভাগের বেশ কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপে যুক্ত ছিল। এর মধ্যে তথ্য ফাঁসের তদন্তের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন পোস্টের এক সাংবাদিকের বাড়িতে অস্বাভাবিক তল্লাশির ঘটনাও রয়েছে।
১৯৯৬ সালে কথিত বিদেশি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিচালনার জন্য গঠিত একটি গোপন আদালতেও প্রথমবারের মতো মামলা পরিচালনায় সহায়তা করে বিভাগটি। ওই মামলায় আফগানিস্তানের এক বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যদিও তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি।
এছাড়া প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশের আগে সেগুলোর কিছু অংশ গোপন বা বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াও তদারকিতে ছিল জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ। তবে প্রকাশিত নথির বড় অংশ অতিরিক্তভাবে গোপন করা হয়েছে বলে সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও।
সূত্র: রয়টার্স