ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ ১১ জন নিহত

ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে বানি হাশিশ জেলার আল-শারিয়াহ এলাকায় সৌদি বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে হুথি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরাহ টিভি। শনিবার (৭ নভেম্বর) চ্যানেলটি স্থানীয় এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এসব বিমান হামলায় নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তবে হতাহতদের পরিচয়, হামলার সুনির্দিষ্ট সময় এবং আহতের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এ ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য বা স্বাধীন সূত্রে হতাহতের তথ্য নিশ্চিত হওয়ার খবরও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

তাইজ প্রদেশে বিমান হামলায় হতাহত ৩০

এদিকে, ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে একটি জনবহুল বাজারে সৌদি আরবের বিমান হামলায় ৩০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে আল-হাদারা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে ইয়েমেনের আল-মাসিরাহ টেলিভিশন জানায়, বাজারে যখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল, তখনই হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক হিসাবে হতাহতের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তল্লাশি চালাচ্ছেন।

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, শুক্রবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে সৌদি আরবের খামিস মুশাইত ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান তাইজের আল-ওয়াজিয়াহ জেলার বাজারটিতে তিন দফা হামলা চালায়। সকাল ৮টার দিকে বিমানটি এলাকা ছেড়ে ঘাঁটিতে ফিরে যায়। এ হামলার জবাব দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক দপ্তর এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জনবহুল বাজারে একাধিক বিমান হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধের স্পষ্ট উদাহরণ। একই সঙ্গে সৌদি আরবের হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমর্থন ও সুরক্ষা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। হামলা অব্যাহত থাকলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।