জার্মানির ২০২৬ সালের ‘ফ্রিডম প্রাইজ’ ইরানের জনগণের পক্ষে গ্রহণ করেছেন নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। পুরস্কারটি নিজের কাছে সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করবেন জানিয়ে তিনি অঙ্গীকার করেছেন, সুযোগ হলে একদিন তা ইরানের রাজধানী তেহরানে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেবেন।
শনিবার (৭ অক্টোবর) জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের ঐতিহাসিক সেন্ট পলস চার্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণের পর এ কথা বলেন রেজা পাহলভি।
তিনি জানান, পুরস্কারটি গ্রহণে সম্মতি দেওয়ার সময় তিনি একটি শর্ত দিয়েছিলেন- এটি যেন তার ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে নয়, বরং ইরানের জনগণের সম্পদ হিসেবে তার কাছে সাময়িকভাবে রাখা হয়। পাহলভি বলেন, একজন রক্ষক এমন মূল্যবান কিছু সংরক্ষণ করেন, যা অন্য কারও সম্পত্তি। সময় হলে তিনি সেটি অক্ষত ও সম্পূর্ণ অবস্থায় প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেই দিন খুব শিগগিরই আসবে। তার ভাষায়, একদিন আমি এটি এর প্রকৃত মালিক, ইরানের জনগণের হাতে তুলে দেব। বিদেশের মাটিতে নয়, আমাদের রাজধানী তেহরানে।
ইরানিদের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সংগ্রামের স্বীকৃতি
জার্মানির ফ্রিডরিখ নওমান ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের ফ্রিডম প্রাইজ দিয়েছে ইরানের জনগণকে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য তাদের সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ইরানিদের পক্ষে তা গ্রহণ করেন রেজা পাহলভি। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার সংগ্রামে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
পাহলভি বলেন, ৪৭ বছর ধরে ইরান এমন একটি বাড়ির মতো, যার প্রকৃত বাসিন্দারা নিজেদের ঘরে প্রবেশের অধিকার হারিয়েছেন; কেউ ঘরের বাইরে আটকে আছেন, আবার কেউ ভেতরে বন্দি। ১৯৭৯ সালে ইরানের জনগণের হাত থেকে ‘চাবি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই চাবি প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজে ভূমিকা রাখাকে তিনি নিজের দায়িত্ব মনে করেন।
রেজা পাহলভি ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে তিনি নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তার বক্তব্য ও ভূমিকা আন্তর্জাতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়ে আসছে।