ইসরায়েলের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিকল্প হিসেবে আলোচনায় এসেছেন গাদি আইজেনকোট। তাকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর বাইরে ভিন্ন এক ইসরায়েল উপহার দেওয়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোটের হাতে সময় মাত্র ২৮ দিন। এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তার নেই। ফলে অতি-গোঁড়া ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি দলের অন্তত একটির সমর্থন নিতে হতে পারে তাকে। এমন সমর্থন নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষকে নিয়ে সরকার গঠন, দুটিই তার জন্য কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণ।
আইজেনকোট সরকার গঠনে সফল হলেও ইসরায়েলের আঞ্চলিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে কি-না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
নতুন নেতৃত্ব এলেই এসব নীতির পরিবর্তন হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ- ইসরায়েলের আঞ্চলিক অবস্থান ও নিরাপত্তানীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান। তাই আইজেনকোটের সামনে চ্যালেঞ্জ কেবল নেতানিয়াহুকে প্রতিস্থাপন করা নয়; বরং সরকার গঠনের পাশাপাশি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ এবং আঞ্চলিক নীতিতে পরিবর্তনের সক্ষমতা দেখানো।
আল-জাজিরার বিশ্লেষক সাইমন স্পিকম্যান কর্ডালের প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, আইজেনকোট কি বিশ্ববাসীর সামনে ভিন্ন এক ইসরায়েল তুলে ধরতে পারবেন? সেই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে তার সরকার গঠনের সক্ষমতা এবং ক্ষমতায় গেলে নীতিগত পরিবর্তনের ওপর।