অক্টোবরে ৪-এর পর ১৫ তারিখ কেন?

খবরসংযোগ ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে চারপাশের অনেক অজানা তথ্যের সন্ধান পাওয়া যায়। আর কত ধরনের রহস্যেও যে জট উন্মোচিত হচ্ছে তারও হিসাব নেই। এসব নিয়ে কিছু মানুষের জানার আগ্রহ কম। আবার কারো কারো মধ্যে সব বিষয়ে জানার আগ্রহ থাকে প্রবল।

ইন্টানেটে অনেক ধরনের রহস্যের সন্ধানও পাওয়া যায়। যেমন আপনি কি জানেন ১৫৮২ সালের অক্টোবর মাসের ক্যালেন্ডারে ১০ দিন নেই। অবাক হচ্ছেন? আপনার মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই একটি পোস্ট দেখে নেটিজেনদের চোখ রীতিমত কপালে উঠেছে।

কয়েকদিন আগে টুইটারে এক অদ্ভুদ রহস্যের খবরের চর্চা শুরু হয়। ফেসবুকে ১৫৮২ সালের ক্যালেন্ডারের একটি পোস্টে শেয়ার করে লেখা হয়, ‘আপনার ক্যালেন্ডারে দেখুন এবং ১৫৮২ সালের অক্টোবরে যান।’

তারপরই পোস্টটি ঘিরে টুইটারে চর্চা শুরু হয়। নেটিজেনরা ১৫৮২ সালের অক্টোবরের ক্যালেন্ডার দেখতে শুরু করেন। কিন্তু অবাক হওয়ার বিষয়, আর পাঁচটা বছরের মতো সেই বছরের অক্টোবর যে একই রকম ছিল না তা দেখে রীতিমতো অবাক সকলে।

সাধারণ ক্যালেন্ডারের চেয়ে একেবারে আলাদা ছিল ১৫৮২ সালের ক্যালেন্ডার। সেই বছরের ক্যালেন্ডারে অক্টোবর মাসের ৪ তারিখের পরেই রয়েছে ১৫ তারিখ। অর্থাৎ এক কথায় মাঝের ১০ দিন নেই! কিন্তু সেই দিনগুলোর কি হয়েছিল? এই প্রশ্নই অনেকের মনে আসতে থাকে।

কিছু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়াতেই বিষয়টির সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। এক টুইটার ব্যবহারকারী জিজ্ঞাসা করেছেন, ‘কেউ কি ১৫৮২ সালের অক্টোবরের ব্যাখ্যা করতে পারেন? এটির সময় বাস্তব নয়।’ অপর এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘১৫৮২ সালের অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে কী এমন ঘটেছিল যে সেটি ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়েছে?’

তবে সৌভাগ্যক্রমে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টির অমীমাংসিত রহস্য থেকে যায়নি। অবশেষে এ প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্যোর্তিপদার্থবিদ এবং সায়েন্স কমিউনিকেটর নীল ডিগ্র্যাস টাইসন ব্যাখ্যা করেছেন।

নীল ডিগ্র্যাস টাইসন জানিয়েছেন, ১৫৮২ সালে জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রতি চার বছরে একটি লিপিয়ারের দিন সহ, পৃথিবীর কক্ষপথের সাপেক্ষে দশটি অতিরিক্ত দিন জমা হয়েছিল। তাই পোপ গ্রেগরি সেই বছরের ১০ দিন বাতিল করে নতুন এবং অসাধারণভাবে একটি নির্ভুল ক্যালেন্ডার শুরু করেছিলেন। এর ফলেই ওই বছর ক্যালেন্ডারে ৪ অক্টোবরের পরে ১৫ অক্টোবর রয়েছে বলে দেখা গেছে।

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে যে আসল রহস্যের উত্তর পাওয়া গেছে তা বলাই বাহুল্য। যা আগ্রহী নেটপাড়াকে যেমন স্বস্তি দিয়েছে, তেমনই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিও দূর হয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি।

#এসএ/ডব্লিউ/কেজেড