হামলার মূল কৌশলটি ছিল খামেনিকে প্রথম আঘাতেই নিশ্চিহ্ন করা, যাতে তিনি কোনোভাবেই গোপন সুড়ঙ্গ বা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নেয়ার সুযোগ না পান।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সম্প্রতি জানায়, তারা প্রায় সমস্ত তেহরান-এর ট্রাফিক ক্যামেরা ব্যবহার করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কে লক্ষ্য করে নজরদারি চালিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, মোসাদ এ সময় তার নিরাপত্তা ব্যক্তিদের ওপরও নজর রাখে এবং ফোন যোগাযোগে ব্যাঘাত ঘটায়।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ক্যামেরা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বুঝেছিল কখন খামেনী বাসায় থাকবেন এবং তার নিরাপত্তা কর্মীরা কোথায় গাড়ি পার্ক করেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে মোবাইল নেটওয়ার্কে প্রভাব ফেলতেও সক্ষম হয় তারা, যাতে হামলার সময় সহকারীরা সাহায্য ডাকার সুযোগ না পান।
হামলার পরিকল্পনা মাসখানেক ধরে চলছিল, তবে তা সময়মতো সমন্বয় করা হয় যখন জানা যায় খামেনি গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে কমপাউন্ডে সভায় উপস্থিত হবেন। হামলার দিনে, হ্যাক করা ক্যামেরা এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করে কমপক্ষে দুইজন ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তার দ্বারা সভার সময় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, খামেনি এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী দল 'সকালে নাশতার সময় লক্ষ্যবস্তু ছিল এবং হামলায় নিহত হয়েছেন।'
ইসরায়েলি সেনারা জানান, দিনের বেলায় কৌশলীভাবে অতর্কিত আক্রমণ চালানো নিশ্চিত করেছে, যদিও ইরানি প্রস্তুতি ছিল। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রমণের প্রাথমিক ধাপটি ইরানকে বিভ্রান্ত করতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সেন্সর নেটওয়ার্কে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য পরিকল্পিত ছিল।
প্রসঙ্গত, এই হামলা ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য হঠাৎ হত্যার মধ্যে পড়ে এবং এটি অক্টোবর ৭-এর পরে হিজবুল্লাহ ও হামাসের নেতাদের হত্যা করার পরের সবচেয়ে বড় অভিযান।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণের কোনো সরাসরি ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। মার্কিন সেনেটর মার্ক ওয়ার্নার জানিয়েছেন, ইরান থেকে কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই।
মাইকের জনসনের মতে, 'ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বা ছাড়া অভিযান চালাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল এবং না চালালে ফলাফল মারাত্মক হতো।'
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ