ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নিশ্চিত করেছে যে, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ অভিযানে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৮৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতের তালিকায় একটি বড় অংশই নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক ও শিশু।
মার্কিন ভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৭৬ জন শিশু এবং মোট ৭৪২ জন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। অর্থাৎ এই যুদ্ধের মূল শিকারে পরিণত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, গত চার দিনে দেশটির ১৫৩টি শহর এবং ৫০০টিরও বেশি অবস্থানে এক হাজারের বেশিবার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে ইরানি পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিটি জানিয়েছে, দেশের অন্তত ৯টি বড় হাসপাতালে সরাসরি হামলা চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনী (IDF) দায় অস্বীকার করলেও ইরান সরকার একে সুপরিকল্পিত আক্রমণ বলে দাবি করেছে। এছাড়া তেহরানের জরুরি বিভাগ জানিয়েছে, সোমবারের হামলায় আটটি অ্যাম্বুলেন্স এবং বেশ কিছু চিকিৎসা যান ধ্বংস হয়ে গেছে।
কেরমানে একটি সেনা বিমান ঘাঁটিতে চালানো হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে মিনাব এলাকার একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় সেখানে অবস্থানরত ১৪ জন শিক্ষক ও কর্মচারী প্রাণ হারিয়েছেন। রাজধানী তেহরান ছাড়াও বুশেহর, ইসফাহান, উর্মিয়া, পারদিস এবং পারচিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতেও বিরামহীন হামলা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলার ফলে দেশটিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেহরান ইতোমধ্যে এই আগ্রাসনের ‘অত্যন্ত কঠোর’ জবাব দেওয়ার শপথ নিয়েছে। সূত্র: বিবিসি
ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে ইসরায়েলের বিমান হামলা
ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লার গোয়েন্দা প্রধান নিহত
হামলা-পাল্টা হামলায় ৪ দিনে নিহত ৬ শতাধিক
