মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের এক ভয়াবহ মোড়কে নির্দেশ করছে। সংঘাতের এক সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার পর ইসরায়েল তেহরানের ওপর তাদের এযাবৎকালের অন্যতম বৃহত্তম বিমান হামলা চালিয়েছে। আইডিএফ-এর তথ্যমতে, ৮০টিরও বেশি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এই অভিযানে অংশ নেয়, যার ফলে তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ ঘটে। এর বিপরীতে ইরানও বসে নেই; তারা ইসরায়েল এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুদ্ধের আঁচ কেবল ইরান বা ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ নেই। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোকেও ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে হচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলকে এক বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে সরাসরি ও আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাব অনুযায়ী, তারা গত কয়েক দিনে ইরানে ৩,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
রাজনৈতিকভাবে এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনমনীয় অবস্থানের কারণে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানকে সম্পূর্ণ ও "নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ" করতে হবে, অন্যথায় কোনো কূটনৈতিক আলোচনা বা শান্তি চুক্তি সম্ভব নয়। এছাড়া, যুদ্ধে নিহত ছয় মার্কিন সেনার মরদেহ দেশে ফেরার ঘটনাটি আমেরিকার অভ্যন্তরেও যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে শান্তির আশা ক্ষীণ এবং সামরিক শক্তির লড়াই-ই চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।