ইরানে ৫ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি

ইরানে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র গত ১০ দিনে দেশটির ৫ হাজারেরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) এক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সেন্টকোমের দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ৫০টিরও বেশি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ও নৌযান। এছাড়াও মার্কিন বাহিনীর নির্ভুল হামলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ইরানের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম), ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং ড্রোন তৈরির কারখানাগুলো। বাদ যায়নি দেশটির সামরিক যোগাযোগ ও কমান্ড সেন্টারগুলোও।

সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘ ২১ দিন সংলাপ চলে। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই সংলাপ শেষ হয়। এর ঠিক পরের দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন বাহিনী ইরানে শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে অভিযান শুরু করে।

অভিযানের প্রথম দিনেই (২৮ ফেব্রুয়ারি) বড় ধরনের ধাক্কা খায় ইরান। ওই দিনের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং অন্তত ৪০ জন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

বর্তমানে তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে বিমান হামলা চালাচ্ছে। এতে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো এবং তেল ডিপোগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ইরানের অর্থনীতি ও যুদ্ধ সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ইরানও বসে নেই। হামলার প্রতিবাদে তারা ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি উপসাগরীয় দেশ- সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক প্রলয়ঙ্কারী যুদ্ধের মুখে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: এএফপি।