ইরান যুদ্ধ থেকে সম্মানজনক ‘প্রস্থানের পথ’ খুঁজছে ইসরায়েল

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অনির্দিষ্টকালের হামলা নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এখন এই সংঘাত থেকে একটি সম্মানজনক ‘প্রস্থান পথ’ বা ‘এক্সিট র‍্যাম্প’ খুঁজছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অঞ্চলটি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

যুদ্ধের শেষ পরিণতি বা ‘এন্ডগেম’ নিয়ে আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করছে। ট্রাম্প এখন পর্যন্ত ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ এবং পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। 

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা ট্রাম্পের এই দাবির বাইরে বিকল্প কোনো সমাধানের পথ খুঁজছেন। কারণ, যুদ্ধের ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পটপরিবর্তন আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হয়েছেন। তাকে তার বাবার চেয়েও কট্টরপন্থী এবং আইআরজিসি-র বেশি ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনি সহজে আলোচনার টেবিলে বসার মতো ব্যক্তি নন, যা যুদ্ধের পথকে আরও দীর্ঘ করতে পারে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, যৌথ হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বড় অংশ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং সামরিক নেতৃত্বের শীর্ষ স্তর ইতিমধ্যে ধ্বংসের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তাদের মতে, প্রধান সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়ে গেলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে আসে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চাচ্ছেন ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে সেখানে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে।

নেতানিয়াহুর এই ‘দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের’ পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাতের ভেতরেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া রয়েছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট পরিসমাপ্তি না থাকায় অনেকেই হতাশ। কর্মকর্তাদের ভয়, ইরান যুদ্ধ শেষ না হতেই নেতানিয়াহু যদি লেবাননে বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করেন, তবে ইসরায়েল এক ভয়াবহ ‘পঙ্কিল জলাভূমিতে’ আটকে পড়তে পারে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক। তারা চান না যুক্তরাষ্ট্র কোনো ‘অনন্ত যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়ুক এবং ইসরায়েলকে তাদের জন্য একটি ‘বোঝা’ হিসেবে দেখুক। বরং তারা বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবেই নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে আগ্রহী।

সব মিলিয়ে, বাইরে থেকে ইসরায়েলকে আক্রমণাত্মক মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব এখন এই ভয়াবহ সংঘাত থেকে বের হওয়ার নিরাপদ পথ খুঁজছেন।

FJ
আরও পড়ুন