প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের ‘টার্গেটিং মিস্টেক’ এর কারণেই ইরানে ১৭৫ শিশুর মৃত্যু

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জন নিহতের ঘটনায় অবশেষে নিজেদের দায় স্বীকার করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীদের ‘টার্গেটিং মিস্টেক’ বা লক্ষ্যভেদের ভুলের কারণেই এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও নিউ ইয়র্ক টাইমস।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানের মিনাব শহরের ‘শাজারা তাইয়েবা’ (Shajarah Tayyebeh) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হামলাটি মূলত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের একটি বড় ভুল ছিল। ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (DIA) থেকে দেওয়া পুরানো ও অকেজো স্থানাঙ্ক (Coordinates) ব্যবহার করে হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করায় এই বিপর্যয় ঘটে। মূলত ওই স্কুলের পাশেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-র একটি নৌ-ঘাঁটি থাকায় ভুলবশত স্কুলটি টার্গেটে পরিণত হয়।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিক নিহতের এটি অন্যতম বড় ও ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তেহরান শুরু থেকেই ভিডিও ফুটেজ এবং মার্কিন টমাহক (Tomahawk) ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো প্রদর্শন করে দাবি করে আসছিল যে— আমেরিকা এই হামলার জন্য দায়ী।

হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, এই হামলার জন্য ইরান নিজেই দায়ী। তিনি বলেছিলেন, ‘ইরানের গোলাবারুদ খুবই নিম্নমানের এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, এটি তাদেরই কাজ।’ তবে পেন্টাগন ও সেন্ট্রাল কমান্ড ট্রাম্পের সেই দাবি সমর্থন না করে কেবল ‘তদন্ত চলছে’ বলে জানিয়ে আসছিল।

এদিকে, যুদ্ধাস্ত্র বিশেষজ্ঞ এনআর জেনজেন-জোনস জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি ‘টমাহক মিসাইল’। যেহেতু ইসরায়েলের কাছে এই ক্ষেপণাস্ত্র নেই এবং ইরানও এটি ব্যবহার করে না, তাই এটি যে মার্কিন হামলা ছিল তা নিশ্চিত। এছাড়া স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, স্কুল ভবনটি অন্তত ৯ বছর আগে থেকেই আইআরজিসি কমপ্লেক্স থেকে আলাদা করা ছিল এবং দেয়ালে রঙিন চিত্রকর্ম দেখে এটি যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।

মিনাবের এই ট্র্যাজেডি বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভিডিও ফুটেজে ধ্বংসস্তূপের মাঝে ছোট ছোট কফিন এবং শিশুদের রক্তমাখা বই-খাতা দেখে নেটিজেনরা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। যদিও পেন্টাগন একে ‘ভুল’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে, তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে।