মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে প্রথম ফরাসি সেনার মৃত্যু

ইরাকের উত্তরের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল প্রদেশে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় এক ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন। চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে এটিই কোনো ফরাসি সেনার প্রথম মৃত্যু। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানান, ওই সেনা সদস্য ইরাকের এরবিল অঞ্চলে হামলা চলাকালে ‘ফ্রান্সের জন্য প্রাণ দিয়েছেন’। তিনি আরও জানান, ওই একই হামলায় আরও বেশ কয়েকজন ফরাসি সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর ইরাকে স্থানীয় বাহিনীকে সন্ত্রাসবিরোধী প্রশিক্ষণ প্রদান করছিলেন ফরাসি সেনারা। বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই তাদের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়। ফরাসি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় মোট ছয়জন সেনা আহত হয়েছিলেন, যার মধ্যে একজন পরবর্তীতে মারা যান। এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই একই এলাকার একটি ইতালীয় ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছিল।

গত মাসের শেষ দিকে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে, তখন থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই ফরাসি সামরিক বাহিনীর প্রথম প্রাণহানির ঘটনা।

হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ কড়া ভাষায় বলেন, ‘ইরান বা তেহরানে যে যুদ্ধ চলছে, তার দোহাই দিয়ে এ ধরনের হামলার কোনো যৌক্তিকতা হতে পারে না।’

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে উগ্রবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াই এবং স্থানীয় বাহিনীকে প্রশিক্ষণের জন্য এরবিল অঞ্চলে ফ্রান্সের শত শত সেনা মোতায়েন রয়েছে। এই ড্রোন হামলার পর ইরাকে অবস্থানরত বিদেশি সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।