জাহাজে লুকিয়ে থাকার কোনো জায়গা নেই: পাকিস্তানি নাবিক

বিশ্ববাণিজ্যের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী এখন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে হঠাৎ শুরু হওয়া ভয়াবহ যুদ্ধের জেরে সাগরে আটকা পড়েছে শত শত জাহাজ এবং সেগুলোতে থাকা হাজার হাজার নাবিক। সমুদ্রের মাঝখানে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা এই জাহাজগুলো থেকে নাবিকরা অসহায়ভাবে প্রত্যক্ষ করছেন মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া মিসাইল আর উপকূলের ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলে একটি তেলের ট্যাঙ্কারে আটকা পড়েছেন আমির নামের একজন পাকিস্তানি নাবিক। যুদ্ধের কারণে তারা এলাকা ছাড়তে পারছেন না। বিবিসির কাছে নিজের ভীতিকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে আমির বলেন, ‘আমি আমার চোখের সামনে দিয়ে খুব নিচু উচ্চতায় ইরানি ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল উড়ে যেতে দেখেছি। দিনরাত যুদ্ধবিমানের প্রচণ্ড গর্জন শুনতে পাই, কিন্তু সেগুলো কোন দেশের তা বোঝার কোনো উপায় নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজে আসলে লুকিয়ে থাকার কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। যেকোনো সময় একটি মিসাইল আমাদের ওপর আছড়ে পড়তে পারে। আমরা চরম অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটাচ্ছি।’

গত কয়েক দিনে পারস্য উপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করলেই সেটির ওপর সরাসরি গুলি চালানো হবে।

শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গত বছরের (২০২৫) মার্চের তুলনায় ২০২৬ সালের এই সময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। যারা ইতোমধ্যে এই রুটে প্রবেশ করেছিলেন, তারা এখন যুদ্ধের মাঝখানে ‘সিটিং ডাক’ বা সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।

নাবিকদের এই মানবিক সংকটের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরণের বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথ দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ মন্দার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।