হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে তৎপর ইউরোপীয় দেশগুলো

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতির জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। 'ফাইনান্সিয়াল টাইমস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ফ্রান্স ও ইতালি তেহরানের সাথে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য হলো একটি চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।

রয়টার্স জানিয়েছে, ফ্রান্স একটি বহুজাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে যা যুদ্ধজাহাজের মাধ্যমে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দিয়ে প্রণালী পার করে দেবে। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলো থেকে আমদানিকৃত তেলের ৬.২% এবং এলএনজির ৮.৭% এই পথ দিয়েই আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতার ও বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের নাগরিকদের জন্য জরুরি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ১,৪৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো "বিধ্বস্ত" করেছে। ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে ওই অঞ্চলের তেল অবকাঠামোতেও হামলা চালানো হতে পারে।

এদিকে, তেহরানে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশের পর রাজধানী জুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, পাল্টা আঘাত হিসেবে ইরাকের বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের হেলিপ্যাডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে লেবাননেও; সেখানে ইসরায়েলি হামলায় ১২ জন চিকিৎসকসহ নিহতের সংখ্যা ৭৭৩ জনে পৌঁছেছে।  সূত্র: আলজাজিরে