দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে আলোচনা শুরুর আগেই ইরানের জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলার হস্তান্তর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের।
সুইজারল্যান্ডে আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। এর আগে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া পৌঁছে দেয়। মধ্যস্থতাকারী সূত্রগুলোর দাবি, খসড়ার ১৪টি শর্ত পর্যালোচনার পর তাতে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে ইরান।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ হয়ে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা। খসড়া অনুযায়ী, আলোচনা শুরুর আগে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড় করা হবে এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে বাকি অর্থসহ মোট ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ইরানের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিও জানিয়েছে, আলোচনার খসড়ায় জব্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ আগেভাগেই হস্তান্তর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা, ইরানের তেল খাতের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার বিষয়ও রয়েছে।
তবে চুক্তির সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দরকষাকষি অব্যাহত রয়েছে এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মার্কিন-ইরান 'শান্তি চুক্তি' নিয়ে বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের চুক্তি মানতে আমরা বাধ্য নই: ইসরায়েলি মন্ত্রী
স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ হচ্ছে আজ রাত থেকেই: ইরান