আসাদ-পরবর্তী সিরিয়ার অভ্যুত্থানের ১৫ বছর উদযাপন

সিরিয়ার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে ১৫ মার্চ পালিত হচ্ছে ২০১১ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ১৫তম বার্ষিকী। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর এটি দ্বিতীয়বার যখন সিরীয়রা মুক্ত পরিবেশে এই দিনটি উদযাপন করছে। পবিত্র রমজান মাসের আবহে দামেস্কের দক্ষিণ প্রান্তের কাতানাতে শহীদ পরিবারগুলোর সম্মানে ইফতার এবং বারজেহ এলাকায় তরুণ বিপ্লবীদের সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনে দ্রুত সফল হয়েছেন। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও তিনি সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক কারাগার বা আসাদ বাহিনীর নির্যাতনের হাত থেকে মুক্তি পেলেও দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র এবং আইএসআইএল (ISIL) যোদ্ধাদের চোরাগোপ্তা হামলা এখনো ভীতি ছড়াচ্ছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসকে (SDF) সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিশাল এলাকা পুনরায় সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞ জুলিয়ান বার্নস-ড্যাসির মতে, হমসের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় সরকার ও উপজাতীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে জাতিগত দাঙ্গা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে সুন্নি প্রধান নতুন সিরিয়ায় শিয়া সংখ্যালঘু আলাউইত সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিয়ে এখনো গভীর উদ্বেগ রয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকের ধ্বংসলীলা কাটিয়ে সিরিয়া এখন স্থিতিশীলতার সন্ধানে এক কঠিন পথ পাড়ি দিচ্ছে।