ইসরায়েল যুদ্ধে প্রথমবার ‘সিজ্জিল’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো ইরান

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক হাইপারসনিক 'সিজ্জিল-২' ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ‘নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র’ বা ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ হিসেবে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের চেয়ে প্রায় ১৩ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন।

রোববার (১৫ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ১৬তম দিনে প্রথমবারের মতো এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রটি রণক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

সিজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য

ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘সিজ্জিল’ ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত একটি মাঝারি পাল্লার শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি সাজ্জিল এবং আশুরা নামেও পরিচিত। দুই স্তরের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ ২০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বা ওয়ারহেড বহন করতে পারে।

কেন একে ‘নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র’ বলা হয়?

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎক্ষেপণের পর এটি তরল জ্বালানির পরিবর্তে ‘সলিড জ্বালানি’ ব্যবহার করে। এর বিশেষ দিক হলো ‘হাই-অল্টিচ্যুড ম্যানুয়েভারিং’ সক্ষমতা। অর্থাৎ, মাঝ আকাশে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গতিপথ পরিবর্তন বা আঁকাবাঁকা পথে চলতে পারে বলে একে ‘নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র’ বা ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ বলা হয়। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে শত্রুপক্ষের রাডার বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে একে শনাক্ত করা বা ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের থিংকট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (CSIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, সিজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের দৈর্ঘ্য ১৮ মিটার (৫৫ ফুট), ব্যাস ১.২৫ মিটার এবং মোট ওজন ১২ হাজার ৬০০ কেজি। নব্বইয়ের দশকে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু হলেও ২০০৮ সালে এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়। সিজ্জিলের দুটি সংস্করণের মধ্যে ‘সিজ্জিল-১’ স্বল্পপাল্লার এবং ‘সিজ্জিল-২’ সংস্করণটি মাঝারি পাল্লার। গত রোববারের অভিযানে ইরান উন্নত সংস্করণের সিজ্জিল-২ ব্যবহার করেছে। সূত্র: এএফপি ও প্রেস টিভি।