যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরণের যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার খবরকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের কাছে সংঘাত থামানোর কোনো অনুরোধ জানায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি দাবির প্রেক্ষিতে এমন কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চাইছে কিন্তু শর্তগুলো পছন্দ না হওয়ায় তিনি আপাতত আলোচনায় আগ্রহী নন।
সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আমেরিকানদের সঙ্গে কথা বলার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ আমরা দেখছি না। কারণ যখন তারা আমাদের ওপর হামলা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখনও আমরা তাদের সঙ্গে টেবিলে আলোচনায় ছিলাম। এটি মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের একটি যুদ্ধ এবং আমরা শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষা চালিয়ে যাব।’
গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ সংলাপ চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে একযোগে বড় ধরণের হামলা শুরু করে।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিহতের ঘটনার পর থেকেই প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত তেহরান। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে (সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও ওমান) অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আরাঘচির এই অনমনীয় অবস্থান প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত অদূর ভবিষ্যতে থামার কোনো সম্ভাবনা নেই, বরং তা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।