আমিরাতের বৃহত্তম তেল মজুদ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ তেল শিল্প জোনে (FOIZ) ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এই হামলায় একটি বিশাল তেল মজুদ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে এই হামলা জ্বালানি বাজারে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

ফুজাইরাহ সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ড্রোন হামলার পরপরই সিভিল ডিফেন্সের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে। এর আগে সোমবারও একই এলাকায় আরেকটি শক্তিশালী ড্রোন হামলায় ‘ভয়াবহ আগুন’ লেগেছিল। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুটি হামলার ঘটনা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

ফুজাইরাহ অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোন হলো মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম বাণিজ্যিক পরিশোধিত তেল পণ্য সংগ্রহের কেন্দ্র। এর ধারণক্ষমতা প্রায় ৭ কোটি (৭০ মিলিয়ন) ব্যারেল। ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত এই এলাকাটি বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বিতর্কিত ‘হরমুজ প্রণালী’ এড়িয়ে তেল রপ্তানির প্রধান বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

চলতি মাসে এ নিয়ে ফুজাইরাহ তেল টার্মিনাল এলাকায় তিনটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটল। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা পঙ্গু করে দিতেই সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ফুজাইরাহ ছিল একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ, এখন সেই পথেও হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

এখন পর্যন্ত এই হামলার দায় কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। তবে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা চলছে।