রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে ইরাক, ইরান, লেবানন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশে একযোগে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা এবং আমিরাতের বড় বড় তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ডের পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ইরাক: মার্কিন দূতাবাস ও তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা
ইরাকের রাজধানী বাগদাদের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং আল-রশিদ নামক একটি বিলাসবহুল হোটেল লক্ষ্য করে মঙ্গলবার ভোরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ড্রোনকে দূতাবাসের কাছেই গুলি করে নামিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ ইরাকের ‘মাজনুন’ তেলক্ষেত্রেও ভয়াবহ হামলার খবর নিশ্চিত করেছে ইরাকি সেনাবাহিনী।
আমিরাত: আকাশপথ বন্ধ ও তেলক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ড
নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সাময়িকভাবে তাদের পুরো আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। আবু ধাবির বিশাল ‘শাহ গ্যাস ফিল্ড’-এ ড্রোন হামলার পর সেখানে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে এবং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া ফুজাইরাহ অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোনেও (FOIZ) ড্রোন হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ইরান ও লেবানন: ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের রাজধানী তেহরানে ‘ব্যাপক মাত্রায়’ বিমান হামলা শুরু করেছে। তেহরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে সাধারণ মানুষ আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর আস্তানা লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
কুয়েত ও সৌদি আরবের সতর্কতা
কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু ‘শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন’ প্রতিহত করেছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী নাগরিকদের বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দেশের পূর্বাঞ্চলে প্রায় এক ডজন ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বহুমুখী হামলা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে এক অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। পুরো অঞ্চল এখন এক অনিয়ন্ত্রিত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের কবলে।