নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তায় একমত আসিয়ান

আপডেট : ০১ মে ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় ঐতিহাসিক এক সমঝোতায় পৌঁছেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট ‘আসিয়ান’ (ASEAN)। জোটের নেতারা নিষেধাজ্ঞা ও সরবরাহ বিঘ্ন এড়িয়ে একটি জরুরি ‘আঞ্চলিক জ্বালানি-বণ্টন প্রকল্প’ দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আসিয়ান অর্থনৈতিক মন্ত্রীদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ফিলিপাইনের বাণিজ্য সচিব ক্রিস্টিনা রোক এক সংবাদ সম্মেলনে এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান।

ক্রিস্টিনা রোক বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ইতোমধ্যে আসিয়ানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আঘাত করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরণের সংকট দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা উত্তরণে একক কোনো দেশ নয়, বরং সমন্বিত আঞ্চলিক সাড়া প্রয়োজন। আমরা সীমান্তজুড়ে বাণিজ্য উন্মুক্ত ও পণ্য চলাচল সচল রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, এশিয়ার অর্ধেকেরও বেশি তেল এবং এক-তৃতীয়াংশ এলএনজি (LNG) এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই অচলাবস্থার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।

সংকট মোকাবিলায় আসিয়ান নেতারা তিনটি প্রধান কৌশলে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন:
১. আসিয়ান পাওয়ার গ্রিড: সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সংযোগ করার কাজ আরও দ্রুততর করা।
২. মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং কানাডার সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তিগুলোর মানোন্নয়ন ও তা ত্বরান্বিত করা।
৩. পেট্রোলিয়াম নিরাপত্তা চুক্তি: জরুরি অবস্থায় তেলের মজুদ ভাগাভাগি করতে বিশেষ ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

আগামী সপ্তাহে ফিলিপাইনের সেবুতে ‘আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানরা মিলিত হয়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য বিশ্বশক্তির ওপর চাপ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে একটি অভিন্ন আঞ্চলিক অবস্থান চূড়ান্ত করবেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আসিয়ানের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি বড় রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। সূত্র: আরব নিউজ।

FJ
আরও পড়ুন