সামরিক পাহারায় হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা সমাধান নয়: জাতিসংঘ

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সামরিক পাহারা বা 'এসকর্ট' কোনো স্থায়ী সমাধান নয় বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। সংস্থাটির প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গো আজ এক সাক্ষাৎকারে জানান, যুদ্ধজাহাজের সুরক্ষা থাকলেও এই পানিপথে শতভাগ নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেওয়া সম্ভব নয়।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোমিঙ্গো বলেন, "সামরিক পাহারা ঝুঁকি কিছুটা কমিয়ে আনলেও বিপদ পুরোপুরি দূর করতে পারে না। যেকোনো মুহূর্তে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং নাবিকরা হামলার শিকার হতে পারেন।" ইরান সম্প্রতি এই জলপথ দিয়ে তাদের ভাষায় 'শত্রু' রাষ্ট্রগুলোর জাহাজ চলাচল বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর এই সংকট তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি আন্তর্জাতিক নৌ-জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ইউরোপের অধিকাংশ দেশ এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। জার্মানি ও ফ্রান্সসহ বেশ কিছু দেশ জানিয়েছে, সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর চেয়ে তারা কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষপাতি।

বর্তমান সংকটের কারণে এই রুট দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। যদিও ভারতসহ কিছু দেশের এলপিজি ও জ্বালানি বাহী জাহাজ যেমন ইন্ডিয়ান ক্যারিয়ার 'শিভালিক' অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যেও এই পথে যাতায়াত করছে, তবে বীমা খরচ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি সাধারণ বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে অসম্ভব করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথ দীর্ঘমেয়াদে অনিরাপদ থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আইএমও প্রধানের মতে, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে নয়, বরং রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সমুদ্রপথের স্থায়ী স্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।