সংযুক্ত আরব আমিরাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘শাহ গ্যাস ফিল্ড’ এবং ফুজাইরাহ বন্দরে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্যাস ফিল্ডটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের জেরে দেশটির জ্বালানি খাতে বড় ধরণের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
আবুধাবি থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ‘শাহ গ্যাস ফিল্ড’ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সাওয়ার (Sour) গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। গত রাতে ড্রোন হামলার পর কর্তৃপক্ষ এর সব ধরণের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে, ওমান উপসাগর সংলগ্ন ফুজাইরাহ বন্দরের তেল স্থাপনাগুলোতেও একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলার কারণে ফুজাইরাহ বন্দরে তেল লোডিং কার্যক্রম দুইবার বন্ধ করতে হয়েছিল, তবে বর্তমানে তা সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে।
ফুজাইরাহ বন্দর থেকে ৪২ কিলোমিটার পূর্বে সমুদ্রে অবস্থানরত একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন) আঘাত হেনেছে। এতে জাহাজটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরণের কোনো বিপদ ঘটেনি। আমিরাতের সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই সিরিজ হামলাগুলোতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এসব হামলার সরাসরি প্রভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দৈনিক তেল উৎপাদন এক ধাক্কায় অর্ধেক হয়ে গেছে। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ থাকায় দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি তাদের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে বাধ্য হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে আরব আমিরাতের মতো স্থিতিশীল অর্থনীতির দেশেও এখন জ্বালানি ও নিরাপত্তা সংকট প্রকট হয়ে উঠছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সূত্র: বিবিসি