ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী লারিজানি নিহতের ঘটনায় চরম প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে তেহরান। বুধবার (১৮ মার্চ) লারিজানি হত্যার বদলা নিতে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ‘তীব্র’ ও ‘বিধ্বংসী’ হামলা শুরু করেছে ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানি সামরিক কমান্ডাররা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই হামলা হবে শত্রুর কল্পনার বাইরে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সরদার মুসাভি এক ‘দ্রুত হামলার’ ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আজ রাতে শত্রুর আকাশ আপনাদের জন্য দেখার মতো চমৎকার হয়ে উঠবে।’ তার এই বার্তার কয়েক ঘণ্টা পরই ইসরায়েলের তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরের আকাশে ইরান থেকে ছোড়া অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আলো দেখা গেছে।
ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পকে আমাদের ‘সারপ্রাইজের’ (বিস্ময়) জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়া হবে শত্রুর কল্পনা ও কর্মকাণ্ডের চেয়েও অনেক বেশি বিধ্বংসী। এই পথ ততক্ষণ চলবে যতক্ষণ না তারা (শত্রু) আত্মসমর্পণ করে।’
ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, লারিজানি এবং অন্যান্য শহীদদের প্রতিটি ফোঁটা রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তিনি এই প্রতিক্রিয়াকে ‘চূড়ান্ত এবং অনুশোচনামূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া ইরানের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি ‘বিশ্ব উদ্ধত শক্তির’ মুখে শক্ত চপেটাঘাত করবেন।
উল্লেখ্য, লারিজানি হত্যার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এক নতুন মোড় নিয়েছে। ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির জবাবে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।